Murder Case

কোচবিহারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু সরকারি নার্সের, গুরুতর জখম স্বামী

প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিবাদের জেরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার
  • শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ০৩:৫০

কোচবিহারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক সরকারি নার্সের। ঘটনায় তাঁর স্বামী গুরুতর জখম হয়েছেন। পারিবারিক বিবাদের জেরেই ওই নার্সকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। বুধবার রাতে কোচবিহার শহরের বক্সিবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মৃতার নাম ছন্দা রায় (৩৫)। তিনি কোচবিহার এমজেএম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নার্স ছিলেন। স্বামী রঞ্জিত রায় শিলিগুড়িতে গাড়ি চালাতেন। মাঝেমধ্যে কোচবিহারে এসে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতেন। তাঁদের একমাত্র মেয়ে কালিংম্পংয়ের একটি স্কুলে পড়াশোনা করে। সে সেখানেই থাকে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, দাম্পত্য জীবনে বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের অশান্তি চলছিল। বিষয়টি একসময় থানাতেও পৌঁছেছিল। যদিও ছন্দা স্বামীর বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।

বুধবার সন্ধ্যায় ছন্দা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন। তখন তাঁর হাতে বাজারের ব্যাগ ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় তাঁর স্বামী বাড়িতে আসেন। রাত বাড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির ভিতর থেকে চিৎকার শুনতে পান। কিছুক্ষণ পরই ঘরের ভিতরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এলাকার এক মহিলা জানান, তিনি চিৎকার শুনে বাইরে বেরিয়ে দেখেন এক ব্যক্তি বাড়ি থেকে দ্রুত বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর শরীরেও আগুন লেগেছিল বলে তাঁর দাবি। অন্যদিকে বাড়ির সামনে গেটের কাছে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ছন্দাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে, আহত অবস্থায় রঞ্জিত রায় বেশিদূর যেতে পারেননি। তাঁকেও উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানিয়েছে, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। 

বাড়ির মালিক দেবজিৎ বর্মা জানান, ছন্দা প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তাঁর বাড়ির দোতলায় ভাড়া থাকতেন। তাঁর দাবি, একটি গাড়ি কেনার জন্য ছন্দা তাঁর স্বামীকে আর্থিক সাহায্য করেছিলেন।সেই গাড়ির ইএমআই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি চলছিল। একবার বিষয়টি নিয়ে থানাতেও যাওয়া হয়েছিল, তবে পরে তা মিটে যায়। এলাকার বাসিন্দাদের কথায়, এ ধরনের ঘটনা তাঁদের এলাকায় আগে কখনও ঘটেনি। যদি সত্যিই খুনের ঘটনা হয়ে থাকে, তবে তাঁরা অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা শুরু করেছে।


Share