Murder Case

পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন, বাসন্তীতে গ্রেফতার স্বামী

অভিযোগ, অন্য এক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করেন তিনি। ঘটনার পর বাইক নিয়ে পালিয়ে যান। তবে বুধবার সকালে নিউ টাউন এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বাসন্তী থানার পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা
  • শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ০৪:৪৬

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে পারিবারিক অশান্তির জেরে এক গৃহবধূকে খুন। তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠল। অন্য এক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করতেন।এমন সন্দেহ থেকেই এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। মৃতার নাম বীথিকা শাসমল (৩৩)। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী বাপন শাসমলকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে বাসন্তীর মাকাল পাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, বাপন ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করেন। ঘটনার পর তিনি বাইক নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে বুধবার সকালে বাসন্তী থানার পুলিশ নিউ টাউন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে।

জানা গিয়েছে, প্রায় পনেরো বছর আগে সন্দেশখালির বাসিন্দা বাপন শাসমলের সঙ্গে গোসাবার বীথিকা শাসমলের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি ১৪ বছরের মেয়ে রয়েছে। বীথিকা একটি ঋণ প্রদানকারী সংস্থায় কাজ করতেন। বেশ কয়েক বছর ধরেই এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীর সহকর্মীদের সঙ্গে মেলামেশা ও বাইরে যাতায়াত নিয়ে বাপন প্রায়ই আপত্তি জানাতেন। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত অশান্তি লেগেই থাকত। মেয়ের দাবি, অনেক সময় বাবার মারধরের শিকারও মাকে হতে হতো।

সম্প্রতি পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে বীথিকা দিদির বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। তাঁর দিদির বাড়ি বাসন্তিতে। মঙ্গলবার বাপন সেখানে যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সেদিন দুপুরে তিনি এসে স্ত্রীকে বাড়ি ফিরে যেতে অনুরোধ করে। ক্ষমাও চান। কিন্তু বীথিকা ফিরতে রাজি হননি। রাতের খাবারের পর বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েন।

বীথিকার দিদি ঝুমা ঘুঘুর বক্তব্য, রাত প্রায় একটা নাগাদ আচমকা চিৎকার শুনে তাঁদের ঘুম ভাঙে। তাঁর ছেলে ঘরে গিয়ে আলো জ্বালাতেই দেখা যায় বিছানা রক্তে ভেসে যাচ্ছে। অভিযোগ, তখনই ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামী বীথিকার গলা কেটে ফালাফালা করে দেন । মৃতার মেয়ের দাবি, মায়ের অফিসের অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়েও বাড়িতে প্রায়ই ঝামেলা হত। বাবার আপত্তির কারণে অনেক সময় মা যেতে চাইতেন না। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। এছাড়া বাপন মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে অশান্তি করতেন বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।

পরিবারের দাবি, বীথিকা স্বামীর সঙ্গে আর থাকতে চাননি। আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বাপন কোনওভাবেই ডিভোর্স দিতে রাজি ছিলেন না। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিবারের সদস্যরা এই খুন বলে মনে করছেন। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতার আত্মীয়রা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


Share