Electrocution

বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মাঝেই বিপত্তি, নানুরে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ছেলের

বাবার শ্রাদ্ধের আয়োজন চলাকালীন সাবমার্সিবল পাম্প মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল চিরঞ্জিৎ অধিকারীর।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম
  • শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ০৭:০১

 

বাবার শ্রাদ্ধের দিনই বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল ছেলের। বীরভূমের নানুরের পাকুরহাঁস গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম চিরঞ্জিৎ অধিকারী (৪২)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১২ দিন আগে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় মৃত্যু হয় সত্যেন অধিকারীর। সোমবার ছিল তাঁর শ্রাদ্ধকর্ম। সেই উপলক্ষে মঙ্গলবার বাড়িতে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। বাবার শ্রাদ্ধের অগ্নিকর্তা হিসেবে বড় ছেলে চিরঞ্জিৎ সমস্ত ধর্মীয় ক্রিয়াকর্মও সম্পন্ন করেন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, পরের দিনের খাওয়াদাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল বাড়িতে। সেই কারণে বাড়ির বিকল হয়ে থাকা সাবমার্সিবল পাম্পটি মেরামতির কাজ হচ্ছিল। অভিযোগ, মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় সাতটা নাগাদ পাম্পের কাছে কাজ করার সময় চিরঞ্জিৎ বিদ্যুৎপৃষ্ট হন।

তড়িঘড়ি তাঁকে নানুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। বাবার শ্রাদ্ধ উপলক্ষে করা প্যান্ডেল খুলে ফেলা হয়। খাবারের সমস্ত আয়োজনও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

চিরঞ্জিতের দুই ছেলে—১৩ বছরের দেবরাজ এবং সাত বছরের মেঘরাজ। মঙ্গলবার বাবার মুখাগ্নি করে বড় ছেলে দেবরাজ। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় ভেঙে পড়েছে পরিবার। চিরঞ্জিতের মা করুণাময়ী দেবী ও স্ত্রী আনন্দময়ী দেবী শোকাহত অবস্থায় রয়েছেন। মৃতের মামা সুদেব আচার্য বলেন, “দাদুর মৃত্যুর শোক এখনও কাটেনি, তার মধ্যেই ভাগ্নের মৃত্যুতে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।” স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দাবি, এমন ঘটনা তাঁরা আগে দেখেননি। তাঁদের কথায়, “দাদুর শেষকৃত্যের কিছুদিনের মধ্যেই বাবার মুখাগ্নি করতে হল নাবালক ছেলেকে। এই শোক ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”


Share