Kolkata Municipal Corporation

শহরের বহুতলে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে রান্নার গ্যাস, বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হল দায়িত্ব, তা-ও চিন্তিত পুরসভা

মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, "এই পরিস্থিতির দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারকে নিতে হবে।" পাশাপাশি তিনি বলেন, "বিজিএসএল-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কীভাবে গ্যাস পৌঁছে দেবেন তা স্পষ্ট নয়।"

কলকাতা পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ১০:২৯

আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের প্রভাব গোটা পৃথিবী-সহ ভারতে এসে পড়েছে। রান্নার গ্যাসের দাম একলাফে ৬০ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ১৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংকট কলকাতাতেও অব্যাহত।  গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে নিয়ে বুধবার উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা পুরসভা। 

পুরসভার সূত্রের খবর, কলকাতার ১০ ও ১২ নম্বর বোরোর মধ্যে থাকা বিস্তীর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্যে থাকা কিছু মাল্টি স্টোরেজ বিল্ডিং গুলিতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে এলপিজি গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে চলেছে পুরসভা। এইজন্য 'বেঙ্গল গ্যাস সাপ্লাই কর্পোরেশন' (বিজিএসএল) নামে একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দিতে চলেছে তাঁরা। 

এ দিন পুরসভার অধিবেশন চলাকালীন ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তপন দাশগুপ্ত পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাবটি পেশ করেন। তার উত্তরে কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, ইতিমধ্যেই ১০ ও ১২ নম্বর বোরোর মধ্যে থাকা বেশ কিছু বহুতলে পাইপ লাইনের মাধ্যমে এলপিজি গ্যাস সরবরাহ করার জন‍্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কীভাবে গ‍্যাস তাঁরা সরবরাহ করবেন তা নিয়ে স্পষ্ট ভাবে কিছু জানাননি তিনি।

অধিবেশন শেষে এ দিন সমগ্র কলকাতায় রান্নার গ্যাসের পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, "এই পরিস্থিতির দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারকে নিতে হবে।" পাশাপাশি তিনি বলেন, "বিজিএসএল-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কীভাবে গ্যাস পৌঁছে দেবেন তা স্পষ্ট নয়।" তবে প্রশ্ন উঠছে, এই সংস্থা যদি সঠিক পরিষেবা না দিতে পারে তবে তার দায়িত্ব কে নেবে?

পাশাপাশি মেয়র আরও জানান, রান্নার গ্যাসের অভাবে মা ক্যান্টিনের পরিষেবা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, পুরসভার অধীনে থাকা স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল পরিষেবা দেওয়াও অসুবিধা জনক হয়ে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি এ দেশের রান্নার গ্যাসের সরবরাহে পড়েছে। ভারতগামী তেলের ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে। ইরান ইতিমধ্যেই তা বন্ধ করে রেখেছে। যদিও ভারতীয় কোনও জাহাজ আটকানো হবে না বলেও জানিয়েছে তারা। তার জেরেই  দেশজুড়ে এলপিজি গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই সংকট ক্ষণস্থায়ী বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।


Share