Lalkrishna Advani

বুকে সংক্রমণ, দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি লালকৃষ্ণ আডবাণী, আপাতত স্থিতিশীল শারীরিক অবস্থা

৯৮ বছর বয়সি এই নেতার শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

লালকৃষ্ণ আদভানি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৫

বুকে সংক্রমণ নিয়ে দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি হলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা দেশের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণী। ৯৮ বছর বয়সি এই নেতার শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। পাশাপাশি চলছে প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ আডবাণীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাঁকে পালমোনারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আপাতত উদ্বেগের কোনও নতুন তথ্য সামনে আসেনি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে আডবাণীকে। চলতি বছরের মে মাসেও বয়সজনিত শারীরিক জটিলতার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফেরেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছিল। সে বার স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলে। তখনও তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

১৯২৭ সালের ৮ নভেম্বর তৎকালীন করাচিতে, অধুনা পাকিস্তানে, জন্ম লালকৃষ্ণ আডবাণীর। ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অবদান রয়েছে। বিজেপিকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। দলের জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি দেশজুড়ে সংগঠন বিস্তারেও উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল তাঁর।

১৯৯০ সালে তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত ‘রাম রথ যাত্রা’ ভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। এই যাত্রার মধ্য দিয়েই জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির উত্থান আরও গতি পায়। পরবর্তী সময়ে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের আমলে ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আডবাণী। এর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে তাঁকে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়। এরপর ২০২৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ভারতরত্ন পান এই প্রবীণ বিজেপি নেতা। বর্তমানে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন চিকিৎসকেরা।


Share