Food Safety Campaign

পুজোর ভিড়ে খাবারের মান যাচাইয়ে ফের অভিযান খাদ্য সুরক্ষা দফতরের, নষ্ট করা হল পনির ও ২০ কেজি গ্রেভি

কলকাতার পার্ক স্ট্রিট, রাসেল স্ট্রিট ও মিডলটন স্ট্রিটে অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। ২৭টি দোকান পরিদর্শন করে ৪০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

অভিযান খাদ্যসুরক্ষা দফতরের
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৩

দুর্গাপুজোয় কলকাতার রাস্তায় মানুষের ঢল। পুজো দেখতে বেরিয়ে রাস্তার ধারের খাবারের দোকান কিংবা রেস্তোরাঁয় ভিড় জমাচ্ছেন বহু মানুষ। সেই খাবারের গুণমান ও নিরাপত্তা যাচাই করতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাল কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতর। তল্লাশিতে নিম্নমানের পনির ও মেয়াদ উত্তীর্ণ গ্রেভি পাওয়ায় সেগুলি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

পার্ক স্ট্রিট, রাসেল স্ট্রিট ও মিডলটন স্ট্রিটে অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের ‘মোবাইল ফুড সেফটি অন হুইলস’ দল। রাস্তার ধারের মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে রোল, চাউমিন, মোমো, বিরিয়ানি, চিকেন চাপ ও চাইনিজ খাবারের দোকানে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গাড়িতে থাকা পরীক্ষার ব্যবস্থার সাহায্যে ঘটনাস্থলেই খাবারের গুণমান যাচাই করা হয়। পার্ক স্ট্রিট ও মিডলটন স্ট্রিট মিলিয়ে মোট ২৭টি খাবারের দোকান পরিদর্শন করা হয়। সংগ্রহ করা হয় ৪০টি নমুনা।

পরীক্ষায় পনিরের নমুনা খারাপ পাওয়ায় প্রায় দু’কেজি পনির ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে দেন পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। পাশাপাশি, কয়েকটি রেস্তোরাঁয় ঝোলজাতীয় খাবারের পাত্রে তৈরির তারিখ সংক্রান্ত ট্যাগ ছিল না। মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রায় ২০ কেজি গ্রেভিও নষ্ট করা হয়। ষষ্ঠীর দিন দেশপ্রিয় পার্কের একাধিক রেস্তোরাঁতেও অভিযান চালিয়েছিল দপ্তরের দল।

খাদ্য সুরক্ষা দফতর সূত্রে খবর, প্রায় এক মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় নজরদারি চালানো হচ্ছে। সেই অভিযানে দোকানগুলির পরিকাঠামো ও খাবার তৈরির পদ্ধতিতেও কিছু পরিবর্তন চোখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, অধিকাংশ দোকানেই ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার বৈধ লাইসেন্স দৃশ্যমান স্থানে রাখা হচ্ছে। প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে প্রয়োজনীয় লেবেল, সংস্থার লোগো ও লাইসেন্সের তথ্যও থাকছে।

এ ছাড়া, অনেক দোকানে খোলা মশলার পরিবর্তে ব্র্যান্ডেড সংস্থার মশলা ব্যবহার করা হচ্ছে। খাবার তৈরি ও পরিবেশনের ক্ষেত্রেও পরিচ্ছন্নতার দিকে আগের তুলনায় বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি খাদ্য সুরক্ষা দফতরের। তবে খাবারের গুণমান বা নিরাপত্তা নিয়ে কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট খাবার নষ্ট করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা।


Share