Delhi High Court

দিল্লির দাঙ্গায় ইউএপি ধারায় অভিযুক্ত কমিউনিস্ট নাতাশা নারওয়ালকে ব্রিটেন যাওয়ার অনুমতি দিল দিল্লি হাই কোর্ট, মানতে হবে হবে একাধিক শর্ত

২০২১ সালে অতিরিক্ত বিচারক অমিতাভ রাওয়াত মামলায় আলোচনায় আসা DPSG হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কথোপকথন খতিয়ে দেখেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওই চ্যাটে নাতাশার উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি, ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার জন্য মহিলাদের মধ্যে লাল লঙ্কার গুঁড়ো বিলি করার প্রসঙ্গও উঠে এসেছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়।

কমিউনিস্ট নাতাশা নারওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৯

২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার দেশ বিরোধী কার্যকলাপ বিরোধী আইনে অভিযুক্ত কমিউনিস্ট নাতাশা নারওয়ালকে ব্রিটেনে যাওয়ার অনুমতি দিল দিল্লি হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি অমিত বনসলের বেঞ্চ শিক্ষামূলক সম্মেলনে যোগ দেওয়া এবং গবেষণার কাজে তাঁকে ব্রিটেন যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তবে, এর জন্য নাতাশাকে একাধিক শর্ত মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নাতাশাকে ১ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জমা রাখতে হবে। হরিয়ানার বাসিন্দা তাঁর ভাইকে এই দায়ভার দিয়েছে আদালত। আগামী ২ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্রিটেনে থাকার অনুমতি পেয়েছেন নাতাশা নারওয়াল। নাতাশা ট্রায়াল কোর্টের কাছে একটি লিখিত অঙ্গীকারও জমা দিতে হবে বলেও দিল্লি হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। তাতে জানাতে হবে যে তিনি ভারতে ফিরে আসবেন। ব্রিটেন সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করবেন না। দেশে ফেরার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজের পাসপোর্টও ট্রায়াল কোর্টের কাছে আবার জমা দিতে হবে বলে হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে।

পাশাপাশি, ব্রিটেনে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে চলা মামলা বা বিচারাধীন বিষয় নিয়ে নাতাশা কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না। তাঁর পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা যদি কোনও লুক আউট সার্কুলার থাকে তা বিদেশে থাকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেটিও স্থগিত থাকবে বলে নির্দেশিকায় হাই কোর্ট জানিয়েছে।

আদালতের বক্তব্য, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যাতায়াতের অধিকার সীমিত করা যায় না। বিচারপতি বলেন, “আপনাদের হাত-পা বাঁধা নয়। আপনারা ভারত সরকার। বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হতে ২০ বছর লেগে যেতে পারে। কাউকে এখানে আটকে রাখা যায় না। এটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি শিক্ষামূলক কাজে যেতে চাইছেন।”

 

কেন ব্রিটেনে যেতে চান নাতাশা নারওয়াল?

কমিউনিস্ট নেত্রীর নাতাশা ২০২৩ সালে একটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি তাঁর গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক একটি চিঠি দিয়ে তাঁকে সশরীরে উপস্থিত থেকে গবেষণার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করার নির্দেশ দেন।

লন্ডনের স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ় (SOAS)-এ ৫ থেকে ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২৩তম বার্ষিক হিস্টোরিক্যাল ম্যাটেরিয়ালিজ়ম কনফারেন্স। সেখানে “Gendered Carceral Labour as Social Reproduction” শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করার কথা নাতাশার। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডক্টরাল প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তিনি। এই সফর তাঁর পিএইচডি গবেষণা এবং থিসিস সম্পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজনীয় বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট। তবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এই আবেদনের বিরোধিতা করা হয়।

পুলিশের হয়ে সওয়াল করে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু বলেন, “গত তিন বছর ধরে নাতাশা ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পিএইচডি করছেন। তাই তাঁর সশরীরে উপস্থিত থাকা অপরিহার্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইমেলের উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, নাতাশার পরিবর্তে তাঁর সহ-লেখকও গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করতে পারেন। নাতাশার আইনজীবী অদিত পুজারি পাল্টা জানান, “ওই গবেষণাপত্রের কোনও সহ-লেখক নেই। তাই নাতাশাকেই সেটি উপস্থাপন করতে হবে।” দিল্লি পুলিশের আশঙ্কা, ব্রিটেনের প্রত্যর্পণ নীতি কঠোর। তার কারণে নাতাশা দেশে না ফিরলে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে।

চলতি মাসের গোড়ায় কড়কড়দুমা আদালত নাতাশার বিদেশযাত্রার আবেদন খারিজ করে দেয়। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, বিদেশে যাওয়ার অধিকার নিরঙ্কুশ নয়। তাঁর বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র অধীনে মামলা বিচারাধীন থাকাও এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন নাতাশা। সেখান থেকেই শর্তসাপেক্ষে তাঁকে ব্রিটেনে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত।

নাতাশা নারওয়াল কমিউনিস্টদের একটি সংগঠনের নেত্রী। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘটিত দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ওই হিংসায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৪০০-রও বেশি মানুষ জখম হয়েছিলেন। দিল্লি পুলিশ ২০২০ সালের ২২মে নাতাশা এবং এই মামলার আর এক অভিযুক্ত দেবাঙ্গনা কলিতাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের অভিযোগ, সিলমপুরে প্রতিবাদের আয়োজন এবং ২০২০ সালের ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারির একটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল। ওই বৈঠকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA)-বিরোধী ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পুলিশের।

২০২১ সালে অতিরিক্ত বিচারক অমিতাভ রাওয়াত মামলায় আলোচনায় আসা DPSG হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কথোপকথন খতিয়ে দেখেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওই চ্যাটে নাতাশার উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি, ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার জন্য মহিলাদের মধ্যে লাল লঙ্কার গুঁড়ো বিলি করার প্রসঙ্গও উঠে এসেছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়।


Share