Middle East Conflict

'মউ' মানা না হলে যুদ্ধ অনিবার্য! আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের, পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা বন্ধেরও ইঙ্গিত তেহরানের

পারস্য উপসাগরে আমেরিকার হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘‘আমরা অবশ্যই জবাব দেব।’’ এ-ও জানান, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শুধু একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছোনো নয়। বরং এই আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সমঝোতার ১৪ দফা শর্তের কথা।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০১:২০

দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা কবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর মধ্যেই আমেরিকার উদ্দেশে কড়া বার্তা দিল ইরান। সে দেশের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি সমঝোতা স্মারকের (মউ) শর্ত মেনে না চলে, তবে তেহরান যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, আমেরিকা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তি নিয়ে আর কোনও আলোচনা এগোবে না।

এক সাক্ষাৎকারে বাঘেরের অভিযোগ, আমেরিকা বারবার সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। পারস্য উপসাগরে আমেরিকার হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘‘আমরা অবশ্যই জবাব দেব।’’ এ-ও জানান, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শুধু একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছোনো নয়। বরং এই আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সমঝোতার ১৪ দফা শর্তের কথা।

বাঘের বলেন, ‘‘আমরা মউ স্বাক্ষর করেছি। এই সমঝোতাপত্রের ১৩ অনুচ্ছেদ পূরণের জন্য আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। এটিই ছিল সমঝোতা স্মারকের অন্যতম বড় সাফল্য।’’ এখানে ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সমঝোতাপত্রে নির্ধারিত শর্তগুলি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবে আমেরিকা ও ইরানের যৌথ তত্ত্বাবধানে গঠিত একটি বিশেষ দল। তবে এই যৌথ পর্যবেক্ষক দল কীভাবে কাজ করবে বা তাদের কার্যপদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের স্পিকারের দাবি, ওই দল গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এখনও চলছে।

সমঝোতা স্মারক (মউ) সই হওয়ার পর ইরানের তেল রফতানির উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে আমেরিকা। এ প্রসঙ্গে ইরানের প্রতিনিধি বাঘের বলেন, “হরমুজ প্রণালীর উপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ইতিমধ্যেই ইরান চার কোটিরও বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রফতানি করেছে।” তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালীর উপর ইরান ও ওমানের যৌথ কর্তৃত্ব থাকলেও ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে। সমঝোতা স্মারকের উল্লেখ করে বাঘের বলেন, “আগামী ৬০ দিন পণ্যবাহী জাহাজগুলি বিনামূল্যে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে। তবে কোনও অবস্থাতেই হরমুজের উপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার থেকে আমরা সরে আসব না। এটি আমাদের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ।”

কাতারে সম্ভাব্য আমেরিকা-ইরান বৈঠক ঘিরে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। সোমবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের অনুরোধে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে আমেরিকা এবং মঙ্গলবার কাতারে সেই বৈঠক হওয়ার কথা। তবে নির্ধারিত দিনে কোনও বৈঠকই অনুষ্ঠিত হয়নি। সোমবার হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জারেড কুশনার কাতারে যাচ্ছেন। একই সময়ে ইরানও একটি প্রতিনিধিদল কাতারে পাঠায়। কিন্তু তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তাদের প্রতিনিধিদলের সফরের সঙ্গে আমেরিকার প্রতিনিধিদের উপস্থিতির কোনও সম্পর্ক নেই এবং দুই দেশের মধ্যে বৈঠকেরও কোনও পরিকল্পনা নেই।

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ‘ফার্স নিউজ’-কে বলেন, “আমেরিকার প্রতিনিধিদের কাতারে যাওয়ার সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধিদলের সেখানে যাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।”

গত ১৭ জুন সংঘর্ষবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (মউ) সই হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল। কিন্তু সেই স্থিতি বেশিদিন বজায় থাকেনি। এরপর দফায় দফায় আমেরিকা ও ইরান উভয় দেশই পাল্টা হামলা চালায়। বর্তমানে আবারও সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হলেও, একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং তীব্র বাগ্‌যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশই এখন সরাসরি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে না গিয়ে প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত অবস্থান যাচাই করার চেষ্টা করছে। তাই সীমিত হামলা বা উত্তেজনার ঘটনা ঘটলেও, আপাতত আমেরিকা কিংবা ইরান কেউই বৃহৎ পরিসরের যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। তবে কূটনৈতিক চাপ ও সামরিক তৎপরতার মাধ্যমে উত্তেজনার পারদ ধরে রাখার কৌশলই অনুসরণ করছে দুই পক্ষ।


Share