Donald Trump

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে রুশ ডিজেল কেনার পথে ট্রাম্প, ভারতের উপর শুল্কনীতি ঘিরে উঠল প্রশ্ন

পরবর্তী সময়ে নভেম্বরে আরও ৫ লক্ষ টন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ লক্ষ টন জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। পাশাপাশি, রুশ ডিজেলবাহী ট্যাঙ্কারের পরিবহণে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২১

আমেরিকার আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার উপর আরোপিত একাধিক বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করে মস্কোর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপের পরই এই বিষয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ৩ লক্ষ টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে নভেম্বরে আরও ৫ লক্ষ টন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ লক্ষ টন জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। পাশাপাশি, রুশ ডিজেলবাহী ট্যাঙ্কারের পরিবহণে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী ৩ নভেম্বরের কংগ্রেসীয় নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনরোষ প্রশমিত করাই ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়তে থাকায় পরিবহণ থেকে কৃষিকাজ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়েছে। তার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষও বাড়ছে। এর উপর মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে রাশিয়ার প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নেওয়ার পথে হাঁটছেন ট্রাম্প—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আমেরিকার প্রশাসনের আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারতের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার এই সিদ্ধান্তের তুলনা টানা হচ্ছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে নয়াদিল্লির উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়াশিংটন। ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্কের বিষয়টি ঘিরেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন তৈরি হয়। ভারতের যুক্তি ছিল, জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অথচ এখন আমেরিকা নিজেই রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার পথে এগোলে সেই নীতি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, রুশ পেট্রোলিয়াম পণ্যের বাজার ফের খুলে দেওয়া কার্যত পুতিনকে উপহার দেওয়ার শামিল। জ়েলেনস্কির মতে, রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রির সুযোগ বাড়লে মস্কোর যুদ্ধের তহবিল আরও শক্তিশালী হবে। এতে শান্তি প্রতিষ্ঠার বদলে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ সামরিক আগ্রাসন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই রাশিয়ার প্রতি নমনীয়তা দেখানোর পরিবর্তে মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ স্বল্পমেয়াদে আমেরিকার অর্থনীতিকে কতটা স্বস্তি দেয়, তা সময়ই বলবে। তবে নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামলানোর এই কৌশল আন্তর্জাতিক কূটনীতি, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।


Share