Body Recovery

পুজোর আবহে বন্ধ সেলুন থেকে উদ্ধার যুবকের ঝুলন্ত দেহ, মুখে কালো প্লাস্টিক! গয়েশপুরে মৃত্যু ঘিরে রহস্য

নদিয়ার গয়েশপুরের বেদীভবন বাজারে চার দিন ধরে বন্ধ থাকা সেলুন থেকে উদ্ধার ৩৫ বছরের অমিত শীলের ঝুলন্ত দেহ। মুখ কালো প্লাস্টিকে ঢাকা থাকায় যুবকের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য।

বেদীভবন বাজারের একটি সেলুন থেকে দেহ উদ্ধার
নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া
  • শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০২

পুজোর আবহে বন্ধ দোকানের ভিতর থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল নদিয়ার গয়েশপুরে। মৃতের নাম অমিত শীল (৩৫)। ওই যুবক গয়েশপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাতরাপাড়ার বাসিন্দা। দেহ উদ্ধারের পরিস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গয়েশপুরের বেদী ভবন বাজারের একটি সেলুন গত চার দিন ধরে বন্ধ ছিল। গত দু’দিন ধরে ওই দোকান থেকে পচা দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে। বুধবার সকালে দুর্গন্ধ অসহ্য হয়ে ওঠায় আশপাশের ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হয়। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। দোকানের ভিতরে ঢুকে অমিতের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে দাবি, যুবকের মুখ কালো প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকা ছিল। দেহের নীচে চারপাশে তোয়ালে ও লুঙ্গি দিয়ে ঘেরাও করা ছিল। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে যুবকের মৃত্যু হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

এই ঘটনার সঙ্গে অমিতের ব্যক্তিগত জীবনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কয়েক দিন আগে একটি চায়ের দোকানে কয়েক জন অমিতকে মারধর করেছিলেন। পাশাপাশি, অমিতের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ চলছিল বলেও দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ, অমিতের স্ত্রী ওই সন্তানের বাবা অন্য কেউ বলে জানিয়েছিলেন। কয়েক দিন ধরে তিনি তাঁর প্রেমিকের বাড়িতে ছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। 

প্রাথমিক ভাবে খুনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদিও মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করেননি তদন্তকারীরা। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিবাদের জেরে এই ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে পুরনো কোনও শত্রুতা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে অমিতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হবে। ইতিমধ্যেই স্থানীয় কয়েক জন ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। সব দিক খতিয়ে দেখে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।


Share