Molestation

শ্লীলতাহানির অভিযোগ স্বঘোষিত গুরুর বিরুদ্ধে, ইটের আঘাতে মৃত্যু শিষ্যের! গ্রেফতার তিনজন

গলির কোন্নগরের কানাইপুরে স্বঘোষিত এক গুরুর বিরুদ্ধে শিষ্যার শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বচসা থেকে হাতাহাতি। সেই সময় ইটের আঘাতে মৃত্যু হয় উৎপল সমাদ্দার নামে এক ব্যক্তির।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কোন্নগর
  • শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:০৮

শিষ্যার শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। অভিযোগ, স্বঘোষিত এক গুরুর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। আর তার পরেই শুরু হয় বচসা। তা ক্রমে হাতাহাতিতে গড়ায়। সেই সময় ইটের আঘাতে গুরুতর জখম হন এক ব্যক্তি। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি হুগলির কোন্নগরের কানাইপুরে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান্ট সংলগ্ন কলোনি এলাকার। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপালকৃষ্ণ গোস্বামী নামে ওই স্বঘোষিত গুরুর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে। কানাইপুর এলাকায় তাঁর একাধিক শিষ্য-শিষ্যা রয়েছেন। সোমবার তাঁদেরই এক জনের বাড়িতে যান গোপালকৃষ্ণ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অন্য শিষ্যরাও।

অভিযোগ, ওই সময় এক শিষ্যের স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন গোপালকৃষ্ণ। মহিলার দাবি, তাঁর শরীরে আপত্তিকর ভাবে স্পর্শ করেন ‘গুরুদেব’। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একদল গুরুর পক্ষ নেন, অন্যেরা ওই মহিলার পাশে দাঁড়ান। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় হাতাহাতি। অভিযোগকারিণীর আরও দাবি, এর আগেও ওই ব্যক্তি এমন আচরণ করেছেন। অন্য মহিলাদের কাছ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ শুনেছেন তিনি।

এই বচসার মধ্যেই উৎপল সমাদ্দার নামে গোপালকৃষ্ণের এক শিষ্যের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে গণেশ হালদারের বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় বছর পঁয়তাল্লিশের উৎপলকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কানাইপুর ফাঁড়ি ও উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। গণেশকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি, শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠা স্বঘোষিত গুরুকেও আটক করে পুলিশ।

ইতিমধ্যে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরে ধৃত গণেশের আরও দুই আত্মীয়কে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন। তবে স্বঘোষিত গুরুর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।


Share