Sumit Roy

সুজয় হাজরাকে জেরায় সামনে এল সুমিতের নাম! চাকরি প্রতারণা মামলায় অভিষেকের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে ডেবরা থানায় দায়ের এফআইআর

তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এরপর ডেবরা থানায় দায়ের হওয়া চাকরি প্রতারণার মামলার তদন্তেও তাঁর নাম সামনে আসে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০৬:৩৫

মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চাকরি প্রতারণার মামলায় এ বার নাম জড়াল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। ডেবরা থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআরে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই অন্য একটি মামলায় সুমিতের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ এবং তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার জারি করেছে সিআইডি।

বর্তমানে সুজয় হাজরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এরপর ডেবরা থানায় দায়ের হওয়া চাকরি প্রতারণার মামলার তদন্তেও তাঁর নাম সামনে আসে।

গত ১৬ জুন ডেবরা থানায় প্রসেনজিৎ রায় নামে এক যুবক অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ১২টি সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুজয় হাজরা প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা করে দাবি করেছিলেন। প্রথম দফায় মোট ১২ লক্ষ টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। প্রসেনজিতের দাবি, ডেবরার একটি হোটেলে সুজয় তাঁর সঙ্গে আশিক নামে এক ব্যক্তির পরিচয় করিয়ে দেন। আশিক নিজেকে নবান্নের কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আশিক অভিযোগকারী-সহ ১২ জনকে খাদ্য ভবন ও বিকাশ ভবনে নিয়ে যান এবং তাঁদের মেডিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও চাকরি মেলেনি। পরে আরও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। আশিক নাকি জানিয়েছিলেন, সেই টাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ককে দিতে হবে। অভিযোগ, কিছু টাকা নেওয়ার পর প্রার্থীদের হাতে রঙিন জেরক্স করা নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হলেও প্রকৃত নিয়োগপত্র আর দেওয়া হয়নি।

প্রসেনজিতের আরও অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ডেবরা থানার মামলায় সুমিত রায়ের নাম যুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে শালবনি থানার একটি মামলার তদন্তে সুমিত রায়ের খোঁজে কলকাতার কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছেছিল পুলিশ। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তালা ভেঙে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, সুমিতের মোবাইলের শেষ টাওয়ার লোকেশন ওই বাড়ির আশপাশেই পাওয়া গিয়েছিল। তবে সেখানে তাঁর সন্ধান মেলেনি।

একই দিনে হুগলির শ্রীরামপুরে সুমিত রায়ের শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকেও তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।


Share