West Bengal Budget 2026

উত্তরবঙ্গে হবে আইআইটি-আইআইএম, এক হাজার স্কুলে রোবোটিক্স ল্যাব, বাজেটে প্রস্তাব রাজ্য সরকারের

পিএমশ্রী প্রকল্পে দু'হাজার ১০০ কোটি টাকা কেন্দ্রের পিএমশ্রী প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত স্কুলগুলির পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে এসব স্কুলকে মডেল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ০৯:৩৮

বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে শিক্ষা খাতে একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুলশিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা শিক্ষা এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য আর্থিক সহায়তা সব ক্ষেত্রেই বিস্তৃত পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

পিএমশ্রী প্রকল্পে দু'হাজার ১০০ কোটি টাকা কেন্দ্রের পিএমশ্রী প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত স্কুলগুলির পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে এসব স্কুলকে মডেল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাজেটে দু'হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গে আইআইটি ও আইআইএম  স্থাপনের উদ্যোগ উচ্চশিক্ষার প্রসারে ভারত সরকারের সহযোগিতায় উত্তরবঙ্গে একটি আইআইটি এবং একটি আইআইএম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ভোকেশনাল ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাকে উৎসাহ দিতে রাজ্যের এক হাজারটি স্কুলে পটল টেঙ্কারিং ল্যাব গড়ে তোলা হবে। রোবোটিক্স, কোডিং এবং বিভিন্ন ওয়ার্কশপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

একাধিক নবোদয় বিদ্যালয় গড়ে তুলতে জমি দেবে রাজ্য সরকার। প্রথম পর্যায়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদহ, ঝাড়গ্রাম এবং পূর্ব বর্ধমানে চারটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় দুটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় স্থাপনের জন্যও জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘ইনস্টিটিউট অব এক্সেলেন্স’-এ উন্নীত করার লক্ষ্যে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে কেন্দ্রের তরফে এক হাজার কোটি টাকা এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

আইআইটি, জি, নিট, ক্যাট, সিএ এবং সিভিল সার্ভিস-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রতিটি জেলায় স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় ছাত্রীর অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতিটি জেলায় উচ্চশিক্ষারত ছাত্রীদের জন্য পিপিপি মডেলে হস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কাঁথি, কালিয়াচক, জঙ্গিপুর, সাগর, তুফানগঞ্জ এবং ফলতায় নতুন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের সব স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পিএম-সেতু প্রকল্পের মাধ্যমে আইটিআই-গুলিকে আধুনিকীকরণের উপর জোর। এভিজিসি-এক্সআর এবং এক্সটেনডেড রিয়্যালিটির ক্ষেত্রে প্রতি বছর প্রায় এক লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা। ওয়েবেল অ্যানিমেশন অ্যাকাডেমিকে সংস্কার করে থ্রি-ডি অ্যানিমেশন ও ভিএফএক্স-এর নতুন কোর্স চালুর প্রস্তাব। রাজ্যে একটি নতুন স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্বের সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও স্বাস্থ্যবিমার খরচ বহনের জন্য ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ চালুর প্রস্তাব। জাতীয় স্তরের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের টিউশন ফি বাবদ আর্থিক সহায়তার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

রাজ্যের ১৩টি সরকারি মেডিকেল কলেজে প্রায় ৬৫০টি এমবিবিএস আসন এবং ৪৫০টির বেশি পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে শিক্ষা খাতকে আধুনিকীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


Share