Assembly Election

প্রতিটি বুথে কড়া নজর, ওয়েবকাস্টিংয়ে বন্দি ভোট, বদলাবে কি রাজ্যের নির্বাচনের ছবি?

এই প্রশ্নের উত্তর নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন প্রস্তুতিতে লুকিয়ে রয়েছে। জানা গিয়েছে, এবারে রাজ্যের প্রতিটি বুথকেই ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তার মধ্যে যেসব বুথ অতি স্পর্শকাতর বা উত্তেজনাপ্রবণ, সেখানে থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:৩৩

রাজ্যে ভোটের দামামা বাজতেই চারদিকে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। তবে এ বারের নির্বাচন অন্য বছরের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। গোটা রাজ্য যেন এক অদৃশ্য নিরাপত্তা বলয়ে আবদ্ধ। সর্বত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি, সঙ্গে আকাশে ড্রোনের টহল সব মিলিয়ে প্রতিটি মুহূর্ত এখন প্রযুক্তির আওতায় নিয়ন্ত্রিত। সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল সবার মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন, এই কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি রাজ্যে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে? অতীতের অশান্তির স্মৃতি মুছে কি সত্যিই ফিরবে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক উৎসব?

এই প্রশ্নের উত্তর নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন প্রস্তুতিতে লুকিয়ে রয়েছে। জানা গিয়েছে, এবারে রাজ্যের প্রতিটি বুথকেই ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তার মধ্যে যেসব বুথ অতি স্পর্শকাতর বা উত্তেজনাপ্রবণ, সেখানে থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি ১০টি বুথের জন্য একটি করে ক্যুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন থাকবে। এই বিশেষ বাহনের ওপর বসানো উচ্চপ্রযুক্তির ক্যামেরা থেকে লাইভ ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে বুথ সংলগ্ন এলাকার প্রতিটি মুহুর্ত সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পৌঁছে যাবে।

নির্বাচন যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই মার্চ মাসের শুরু থেকে রাজ্যে রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শুধু ভোটের দিনই নয়, ফল ঘোষণার পরেও যাতে কোনওরকম হিংসা না ছড়ায়, তার জন্য বাহিনী মোতায়েন রাখা হবে। এরই মধ্যে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল বিভিন্ন জেলায় সফর করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। বীরভূমে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কমিশনের নির্দেশিকা অমান্য করলে কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। রুট মার্চ এবং এলাকায় বাহিনীর উপস্থিতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

ওয়েবকাস্টিংয়ের এই কঠোর ব্যবস্থার ফলে কারচুপি বা অশান্তির সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তবে এতসব আয়োজনের পরেও শেষ পর্যন্ত রাজ্যের মানুষ কতটা নির্বিঘ্নে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


Share