Humayun Kabir

‘গোপন’ ভিডিয়ো বিতর্কে ভাঙল জোট, একাই লড়বে ওয়েইসির দল

দলের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মুসলিমদের আত্মসম্মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এমন কোনও বিবৃতির সঙ্গে নিজেদের জড়াতে চায় না মিম। আজ থেকে মিম (হুমায়ুন) কবীরের দলের সঙ্গে জোট ভেঙে দিচ্ছে।”

হুমায়ুন কবীর
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:১২

‘গোপন কথা’ ফাঁসের জেরে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিল। শুক্রবার ভোরে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে জোট ভাঙার ঘোষণা করা হয়, যা পরে শেয়ার করেন ওয়েইসি নিজেও।

দলের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মুসলিমদের আত্মসম্মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এমন কোনও বিবৃতির সঙ্গে নিজেদের জড়াতে চায় না মিম। আজ থেকে মিম (হুমায়ুন) কবীরের দলের সঙ্গে জোট ভেঙে দিচ্ছে।”

এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেন, “ওঁর (ওয়েইসি) সিদ্ধান্ত উনি নিতেই পারেন। এই ব্যাপারে আমি কোনও মন্তব্য করতে রাজি নই। ওয়েইসি সাহেবকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে সম্মান করি। ওঁর প্রতি আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা রয়েছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। গত ২৫ মার্চ কলকাতায় আমার সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করে উনি জোট গড়ে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার কথা বলেছিলেন। আমি যতদূর জানি, মোট ১৪টি আসনে ওঁর দল মনোনয়ন তুলেছে।”

‘গোপন’ ভিডিয়ো নিয়ে ওঠা বিতর্কে হুমায়ুনের দাবি, “তৃণমূল একটা কারসাজি করেছে। আমার উল্টো দিকে কোন ব্যক্তি বসে, তা যাচাই করা হয়নি।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “আমি ভীত নই, চিন্তিতও নই। আমার দল ১৮২টি আসনে লড়ছে। সেখানে যথাযথ ভাবে প্রচার চলবে। আমি আশাবাদী যে, আমরা উল্লেখযোগ্য ফলাফল করে দেখাব। মানুষ আমাকে সমর্থন করবে।” বৃহস্পতিবারই হুমায়ুন দাবি করেছিলেন, কৃত্রিম মেধা (এআই) ব্যবহার করে ভিডিয়োটি তৈরি করা হয়েছে। ভিডিয়োর সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে হাই কোর্টে মামলা করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস হুমায়ুনের একটি কথিত ভিডিও প্রকাশ করে। ওই ভিডিওতে বিজেপির সঙ্গে তাঁর গোপন সমঝোতা এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবির অভিযোগ ওঠে। যদিও জোট ভাঙার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ভিডিও বিতর্কই দুই দলের দূরত্ব বাড়িয়েছে। মিম-এর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত, তাই তাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর গড়ে তুলতেই তারা এককভাবে নির্বাচনে লড়বে।

প্রসঙ্গত, সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণকে সামনে রেখে ওয়েইসি ও হুমায়ুন একসঙ্গে আসেন। সম্প্রতি যৌথ সভাও শুরু হয়েছিল। তবে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই সেই জোট ভেঙে গেল।

অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বারবারই অভিযোগ করেছে, এই জোট বিজেপির সুবিধা করে দিতে পারে। সম্প্রতি নদিয়ার নাকাশিপাড়ার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তোপ দেখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মিম নামক একটি সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিয়ে আপনি বিহারে লড়াই করেছিলেন। এখানেও করছেন।” 


Share