Assembly Election

দলীয় কর্মী মারা গিয়েছে এক মাস আগে, কেউ একবার দেখতেও আসেনি! প্রার্থীর সামনে কেঁদে ভাসালেন এক তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী

তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “উদ্দেশ্যে তার বার্তা, দলীয় কর্মীদের খারাপ সময় তৃণমূল থাকে না। শুধুমাত্র ভোট চাওয়ার বেলাতেই আছে। অন্য সময় তাঁরা নেই।”

মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী ইলা সরকারের সামনে প্রচার করছেন দেবাংশু ভট্টাচার্য।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চুঁচুড়া
  • শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২১

দীর্ঘ ১৫ বছর তৃণমূল করেছেন। দলের অত্যন্ত খারাপ সময়তেও দলই ছিল তাঁর প্রাণ। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছর শয্যাশায়ী অবস্থা শেষে একমাস আগে মৃত্যু হলে দলের কেউ একবার খোঁজ নেয়নি। সেই অভিমানেই তৃণমূল কর্মী লঙ্কেশ্বর সরকারের স্ত্রী দলীয় প্রার্থীর সামনে কেঁদে ফেললেন। চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য ভোটপ্রচারে বেরিয়ে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন।

মঙ্গলবার চুঁচুড়া বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য প্রচারে বেরিয়েছিলেন। হুগলি স্টেশন সংলগ্ন কৃষ্ণপুর লাইনের ধারে তিনি জনসংযোগ করছিলেন। প্রচারের এক সময় ভাঙাচোরা টালি চাল ও কিছুটা প্লাস্টিক দেওয়া এক ছোট্ট বাড়িতে তিনি ভোট চাইতে যান। সেটাই ছিল প্রয়াত তৃণমূল কর্মী লঙ্কেশ্বর সরকারের বাড়ি। এক চিলতে ওই বাড়িতে থাকেন তার স্ত্রী ইলা সরকার এবং একমাত্র কন্যা সন্তান। 

ভোট প্রচারের আসা দেবাংশু ভট্টাচার্যকে দেখে কেঁদে ফেলেন ইলা সরকার। অভিমানের সুরে তিনি বলেন, "স্বামী একমাস আগে গত হয়েছেন। দীর্ঘ ১২ বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি করানো যায়নি। ঠিক এই কারণেই প্রচারের সময় বুথ সভাপতি সামনে আসেননি।" মহিলার অভিমান দেখে প্রথমে থমকে যান দেবাংশু ভট্টাচার্য।

মহিলার আরও অভিযোগ, "তৃণমূল কর্মীদের বুকে ব্যাচ পরিয়ে জনসভায় লোক দরকার। কিন্তু দুঃসময় পাশে থাকেন না কেউ।" যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন দেবাংশু। তিনি ওই মহিলার ফোন নম্বর নেন। পরবর্তীকালে আশ্বাস দেন, তিনি নিজে যোগাযোগ করবেন। 

যদিও বিষয়টিকে নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। চুঁচুড়া বিধানসভার বিজেপির এক নেতা বলেন, "তৃণমূলের আমলে কোনও গরীব মানুষের ভালো হয়নি। শুধুমাত্র নেতাদের উন্নতি হয়েছে।" তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “উদ্দেশ্যে তার বার্তা, দলীয় কর্মীদের খারাপ সময় তৃণমূল থাকে না। শুধুমাত্র ভোট চাওয়ার বেলাতেই আছে। অন্য সময় তাঁরা নেই।”


Share