Assembly Election

ভোটের আগেই ‘ড্রাই ডে’! কমিশনের নির্দেশ ছাড়াই রাজ্য জুড়ে মদের দোকান বন্ধ, বিস্মিত রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক

মনোজকুমার আগরওয়াল বলেন, ‘‘শুনে আমি অবাক হয়েছি। কেন কলকাতায় মদ বন্ধ করা হয়েছে জানতে চাইব আবগারি কমিশনারের কাছে।’’

রাজ্যের সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১২

সোমবার থেকে রাজ্য জুড়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে মদের দোকান ও পানশালা। রাজ্যের আবগারি দফতরের নির্দেশে কলকাতা-সহ সমস্ত জেলাতেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। প্রথমে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছিল, বিধানসভা ভোটের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়ে দেন, নির্বাচন কমিশনের তরফে এমন কোনও নির্দেশ জারি করা হয়নি।

মনোজ বলেন, ‘‘শুনে আমি অবাক হয়েছি। কেন কলকাতায় মদ বন্ধ করা হয়েছে ,তা আবগারি কমিশনারের কাছে জানতে চাইব।’’  তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, কমিশনের নির্দেশ ছাড়াই রাজ্যের আবগারি দফতর নিজস্ব সিদ্ধান্তে সোমবার থেকে মদের দোকান বন্ধ রেখেছে। ফলে পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই আকস্মিক পদক্ষেপে সমস্যায় পড়েছেন সুরাপ্রেমীরা।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যে সব এলাকায় ভোটগ্রহণ হয়, সেখানে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে মদের দোকান বন্ধ রাখতে হয়। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট রয়েছে, তাই সেই সব জায়গায় নির্ধারিত সময় থেকেই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার কথা। কিন্তু আবগারি দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০ এপ্রিল থেকেই রাজ‍্যজুড়ে মদের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, দ্বিতীয় দফার ভোট যেখানে হবে যেমন কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সেই সব জায়গাতেও ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকী, ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ছ'টা থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্তও এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। পাশাপাশি গণনার দিন, অর্থাৎ ৪ মে-তেও মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে।

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে ভোটগ্রহণ দ্বিতীয় দফায়, অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, সেটিই কলকাতা-সমেত অন্যান্য জেলাতেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। রাজ্যের সব জেলাশাসক ও কলকাতার নগরপালকে পাঠানো আবগারি দফতরের লিখিত নির্দেশে বলা হয়েছে, ১৯৯৮ সাল থেকেই ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে স্থানীয় মদের দোকান বন্ধ রাখার প্রথা চালু রয়েছে। তবে এ বার সেই সময়সীমা কার্যত দ্বিগুণ করা হয়েছে। তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যেখানে দ্বিতীয় দফার ভোট, সেখানে কেন প্রায় এক সপ্তাহ আগেই মদের দোকান ও পানশালা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হল? এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনও স্পষ্ট কারণ এখনও জানায়নি রাজ্য আবগারি দফতর। ফলে বিষয়টি ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তার মধ্যেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবালের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ককে উসকে দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মাসে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রাজ্য সফরে এসেছিল। সে সময় ইঙ্গিত মিলেছিল যে, এ বারের নির্বাচনে মদের দোকান বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা বেড়ে কার্যত এক সপ্তাহে পৌঁছোনোয় নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে এই সিদ্ধান্ত।


Share