BJP Manifesto

রাজ্যের অস্থিত্ব ‘বিপন্ন’, ভীত সাধারণ মানুষ! সংকল্পপত্রের প্রথমেই অনুপ্রবেশ ইস‍্যুকে জোর দিয়ে দাবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

শুক্রবার অনুপ্রবেশ নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এ ছাড়াও, রাজ‍্যের সংস্কৃতি জগতের মানুষেরা যাতে সারা বিশ্বে পৌঁছে যেতে পারে তার জন‍্য আপামর মানুষক বিজেপিকে ভরসা করতে পারেন বলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আহ্বান করেছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:০০

রাজ্যের অস্থিত্ব ‘বিপন্ন’। রাজ‍্যবাসী তা নিয়ে ভয় পাচ্ছে। আদৌ পশ্চিমবঙ্গের ‘অস্তিত্ব’ থাকবে কিনা, তা নিয়ে ভীত সাধারণ মানুষ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে বিজেপি। নিউ টাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিজেপির ঘোষণাপত্র ‘ভরসার শপথ’ প্রকাশ করেন। তা প্রকাশ করার পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, “আমরা সরকার গঠন করলে, সবার প্রথমেই অনুপ্রবেশের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করব।” কারণ ব‍্যাখ‍্যা করতে গিয়ে শাহের বক্তব্য, সারা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কলকাতা পর্যন্ত, সবার মনে একটা ভয় আছে। এমন ভাবে যদি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ চলতে থাকে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব আদৌ থাকবে কি না। তিনি বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে ভরসা দিতে চাই, একবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে বিজেপিকে সরকার বানাতে সুযোগ করে দিন। আমরা ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’-এর মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে খুঁজে বার করব। তার পরে তাদের দেশের বাইরে পাঠানো হবে।” তা করলেই যে রাজ‍্য এবং সর্বোপরি দেশকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা এখানে এসে জমি দখল করেছে। গ্রাম বাংলা থেকে শহরেও যে জমি-জায়গা দখল করেছে। এ ভাবে যারা জবরদখল করে রয়েছে, তাদের হটানো হবে। যদিও এর জন‍্য ২০০ দিন সময় লাগবে বলেও জানান তিনি। অসমের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ বলেন, “এক লক্ষ ৫০ হাজার একর জমি আমাদের বিজেপি শাসিত সরকার দখলমুক্ত করতে পেরেছে। এখানে ক্ষমতায় এলেও করে দেখাব।” তিনি এ-ও দাবি করেন, “তপশিলি জনজাতিরদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। তারা ‘লাভ জিহাদ’-এর শিকার হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের দ্বারা তাঁরা যে ভীত, তা থেকে মুক্তি পেতে সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা হবে।”

এ দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে বিজ্ঞানকে কাজে লাগানো হবে। অর্থাৎ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হবে। তাঁর দাবি, “এই কাজ বিজেপি সরকার গড়ার পরে করতে চলেছে। দেশ ও রাজ্য যেখানে অনুপ্রবেশের কারণে অসুরক্ষিত। তা সুরক্ষিত করার কাজ আসন্ন বিজেপির সরকারই করবে। সীমান্তকে সুরক্ষিত করতে জমি বিজেপি সরকার দেবে। তা ৪৫ দিনের মধ্যেই জমি অধিগ্রহণ করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সীমান্তকে সুরক্ষিত করতে হবে।”

শুক্রবার অমিত শাহ বলেন, “আজ পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের মনে ভয় আছে, আজ থেকে ১৫ বছর পরে কী হবে। অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার পরিস্থিতি কী হবে। আরজি কর বা সন্দেশখালির জন‍্য রাজ্যের মহিলাদের মনে ভয় আছে। সিন্ডিকেটের কারণে যুবকেরাও ভয় অনুভব করছেন। এই সমস্ত ভয়কে অবসান ঘটিয়ে করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাতে যুবক, মহিলা, কৃষক, মৎস্যজীবীরী সাহসের সাথে ‘সোনার বাংলা’কে নির্মাণের জন‍্য এগিয়ে যেতে পারে।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ আরও জানিয়েছেন, “৩৪ বছর কমিউনিস্টরা শাসন করেছে। তারপর রাজ্যের মানুষ ১৫ বছর ধরে তৃণমূলকে সুযোগ দিয়েছেন। গত পাঁচ দশক ধরে রাজ‍্যকে নিচের দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। আমরা সাংস্কৃতিক ভাবে যেমন পুনর্জাগরণ করব। পশ্চিমবঙ্গের অস্মীতাকে বাঁচাতে এই ‘ভরসা পত্র’ তৈরি করা হয়েছে।“

এ ছাড়াও, বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনেক আধুনিক শিল্পকেও এ রাজ‍্যে নিয়ে আসা বলে জানান তিনি। রাজ্যের যুবকদের রোজগার সুনিশ্চিত করা হবে বলে শাহ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ আমরা বানাব। রাজ‍্যকে উদ‍্যোগী বানানোর জন‍্য সাহায্য করা হবে। কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবনকে আরও সরল করার জন‍্য আমরা কাজ করব। তার জন্য ভয় থেকে বেরিয়ে ভরসার ‘শাসন’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। ভয়, ভেদাভেদ এবং দুর্নীতি রাজ‍্যকে অন‍্য পথে চালিত হয়েছে। আমরা জানি রাজ‍্যের মানুষ আমাদের সুযোগ দেব।”

রাজ‍্যের সংস্কৃতি জগতের মানুষেরা যাতে সারা বিশ্বে পৌঁছে যেতে পারে তার জন‍্য আপামর মানুষক বিজেপিকে ভরসা করতে পারেন বলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আহ্বান করেছেন।


Share