Election Commission

বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছাতে হবে ভোটার স্লিপ, গাফিলতিতে কঠোর শাস্তি, ভোটের আগে বিএলও-দের কড়া বার্তা কমিশনের

নির্দেশিকার মূল জোর রয়েছে ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ বিতরণের উপর। প্রত্যেক বিএলও-কে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে এই স্লিপ পৌঁছে দিতে হবে, এবং ভোটের অন্তত পাঁচ দিন আগে পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩০

আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বুথ লেভেল অফিসারদের ভূমিকা আরও সুসংহত করতে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে প্রকাশিত নির্দেশিকায় ভোটের আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত বিএলওদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্পষ্ট ভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের আগের একাধিক নির্দেশিকার উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, দায়িত্ব পালনে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

নির্দেশিকার মূল জোর রয়েছে ভোটার স্লিপ বিতরণের ওপর। প্রত্যেক বিএলও-কে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে এই স্লিপ পৌঁছে দিতে হবে এবং ভোটের অন্তত পাঁচ দিন আগে পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। স্লিপ সরাসরি ভোটার বা তাঁর পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের হাতে তুলে দেওয়া বাধ্যতামূলক। একসঙ্গে বিতরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়েও কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিএলও-র বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বুথের পরিকাঠামো প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বিএলও-দের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা, ক্যামেরার সঠিক অবস্থান, এবং আলো-বাতাসের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে বিএলও ও সেক্টর অফিসারদের। বিশেষ করে, অতিরিক্ত আলো যেন ভোটকক্ষে না পড়ে সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে, কারণ এতে ভিভিপ্যাট যন্ত্রে ত্রুটি দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে ভোটের গোপনীয়তা বজায় রেখে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

ভোটের দিন প্রতিটি বুথে থাকবে ‘ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ’ (ভিএবি), যেখানে বিএলও-সহ নির্দিষ্ট কর্মীরা ভোটারদের নাম খুঁজে পেতে সাহায্য করবেন। ইংরেজি বর্ণানুক্রমে সাজানো তালিকার মাধ্যমে ভোটাররা সহজেই নিজেদের নাম যাচাই করতে পারবেন। তবে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটের দিন আর কোনও ভোটের স্লিপ বিতরণ করা যাবে না।

নারী ভোটারদের কথা বিবেচনা করে বিশেষ নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যেখানে মহিলার সংখ্যা বেশি, সেখানে তাঁদের সনাক্তকরণের জন্য মহিলা কর্মী নিয়োগ করতে হবে। বিএলও-দের অন্য কোনও কাজে না লাগিয়ে বুথের প্রবেশপথে বসিয়ে ভোটার চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুরুষ বিএলও-র সঙ্গে মহিলা কর্মী এবং তার উল্টোটাও রাখা যেতে পারে।

নির্দেশিকার শেষে কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, উল্লিখিত সব নির্দেশ ‘অক্ষরে অক্ষরে’ পালন করতে হবে। কোথাও গাফিলতি ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মহল।


Share