Assembly Election

ভোটের মুখে পুলিশে বড়সড় রদবদল, এক দিনে ১০০ জন আধিকারিকের বদলি, নির্বাচনের কাজে রাখা যাবে না বলে নির্দেশ

ভোটের আগে এই ধরনের রদবদল নতুন নয়। তবে একই দিনে দুটি স্তরে একসঙ্গে বড় সংখ্যায় রদবদল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষত সংবেদনশীল জেলাগুলিতে এই বদলি যে নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ, তা নিয়ে খুব একটা সংশয় নেই।

কমিশনের নির্দেশ রাজ‍্য পুলিশের রদবদলে সিলমোহর দিল ভবানী ভবন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ০১:০০

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্য পুলিশের ১০০ জন পুলিশ আধিকারিককে একযোগে বদলি করল ভবানী ভবন। একই দিনে জারি হওয়া দুই পৃথক নির্দেশিকায় ইন্সপেক্টর থেকে সাব-ইন্সপেক্টর— দুই স্তরেই এই রদবদল কার্যকর করা হয়েছে।

প্রথম নির্দেশটি আসে রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিভাগ থেকে। সেখানে একযোগে ৮১ জন ইন্সপেক্টরকে বিভিন্ন পুলিশ জেলায় বদল থেকে সরিয়ে নতুন জায়গায় দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— প্রায় গোটা রাজ্যই এই তালিকার আওতায়। কোচবিহার, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুরের মতো স্পর্শকাতর জেলার একাধিক আধিকারিকের নামও রয়েছে সেই তালিকায়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন একই জেলায় কর্মরত অফিসারদেরই মূলত সরানো হয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে রাজারহাটের একটি স্কুলের কয়েক জন ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন আইসি জোনাকি বাগচীর বিরুদ্ধে। তাঁর সরানোর দাবিতে বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকেও বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট থেকে সরিয়ে রাজ‍্য পুলিশের আইবিতে পাঠানো হয়েছে। 

এর পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের এডিজি আরও একটি নির্দেশ জারি করেছেন। সেখানে ১৯ জন সাব-ইন্সপেক্টরকে বদলি করে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। তাঁদের অনেককেই নিজের জেলার বাইরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

দুই ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ কার্যত এক— নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কোনও ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। বদলি হওয়া ইন্সপেক্টরদের ১০ এপ্রিলের মধ্যে নতুন দায়িত্বে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে।

অন্য দিকে বদলি হওয়া ইন্সপেক্টর এবং সাব-ইন্সপেক্টরদের ক্ষেত্রে আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বদলি হওয়া আধিকারিকদের নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজেই নিযুক্ত করা যাবে না। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সমস্ত বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

ভোটের আগে এই ধরনের রদবদল নতুন নয়। তবে একই দিনে দুটি স্তরে একসঙ্গে বড় সংখ্যায় রদবদল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষত সংবেদনশীল জেলাগুলিতে এই বদলি যে নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ, তা নিয়ে খুব একটা সংশয় নেই।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কমিশন আগেভাগেই প্রশাসনিক কাঠামোতে ‘ফিল্টার’ বসাতে চাইছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই পদক্ষেপ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করবে মাঠস্তরে তার বাস্তবায়নের ওপরই।


Share