Assembly Election

মিনাখাঁয় খুন তৃণমূলের বুথ সভাপতি, নেপথ‍্যে দলীয় কোন্দল? ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবারের

ভোরবেলা ঝুঝুরগাছা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার পাশে রহমানের মৃতদেহ দেখতে পান। পুলিশ প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছে, মৃতের দেহে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। খবর পাওয়ার পরে হাড়োয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, মিনাখাঁ
  • শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৬:৪১

বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৃণমূল নেতাকে খুনের অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয়। বৃহস্পতিবার সকালে তৃণমূল নেতার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম কাজি মশিউর রহমান। স্থানীয় সূত্রের খবর, তিনি হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত গাংনিয়ায় ১৭৮ নম্বর বুথের তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, দলীয় কোন্দলের জেরেই তিনি খুন হয়েছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই মশিউর খুন হয়েছে বলে দলেরই একাংশ দাবি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের অভিযোগ, দেগঙ্গা ২ নম্বর ব্লকের ব্লক সভাপতি সুব্রত বসু কৃষ্ণ এই খুনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। 

পরিবারের সদস্যদের মতে, কাজি মশিউর রহমান হুমায়ুন বেড়ে চৌধুরীর সঙ্গী ছিলেন। তাঁরা জানান, সুব্রত কৃষ্ণ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চৌধুরীর কর্মীদের মধ্যে বিরোধ বাড়ছিল। মৃতের স্ত্রী সাবিনা বিবি বলেন, “তৃণমূলের সঙ্গে গভীর ভাবে জড়িত থাকার কারণে দলের অভ্যন্তরেই একাধিক শত্রু তৈরি হয়েছিল।" তাঁরা আরও জানান, এলাকায় একটি পাকা রাস্তা তৈরি হচ্ছে। সেই প্রকল্পের বিরুদ্ধে মশিউর প্রতিবাদই এই হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে।

এ দিন ভোরবেলা ঝুঝুরগাছা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার পাশে রহমানের মৃতদেহ দেখতে পান। পুলিশ প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছে, মৃতের দেহে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। খবর পাওয়ার পরে হাড়োয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। মৃতদেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এক আধিকারিক।

ঘটনার পর দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সদস্য ধনঞ্জয় প্রামাণিক বলেন, "রহমান সম্প্রতি ‘পরে সমাধান’ নামক একটি কংক্রিটের রাস্তা প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। যার ফলেই এই ঘটনাটি ঘটেছে।” মৃতের স্ত্রী জানান, গতকাল গভীর রাতে রহমানকে কেউ ফোন করেছিল। এই ফোন আসার পরেই তিনি বাড়ি থাকে বেরিয়ে যান। আজ ভোরবেলায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, স্থানীয় একটি রাস্তায় কাজ চলার সময় রহমান হামলার শিকার হয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই ঘটনায় হামলাকারীরা তাকে ও তার ভাইকে মারধর করে। সাবিনা বিবি আরও বলেন, “আমরা তখন দেগঙ্গা থানায় গিয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ আমাদের অভিযোগ নেয়নি।”

মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের সমন্বয়ক আব্দুল খালেক মোল্লা প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্বকে কঠোর ভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তারা আমাদের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এবং বুথস্তরের এজেন্টদের ওপর হামলা করছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে দোষীদের খুঁজে বের করার জন্য দু’দিন সময় দিয়েছি। এর সমাধান না হলে অনেক কিছুই ঘটতে পারে।”


Share