Allegations to Hospital

মৃত ঘোষণার পর বিস্ময়! কবরের আগে নড়ে উঠল সদ্যোজাত, নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের

মৃত ঘোষণা করা সদ্যোজাত কয়েক ঘণ্টা পর কবরের আগে জীবিত অবস্থায় ধরা পড়ে। তড়িঘড়ি বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, মা ও শিশু দু’জনেই সুস্থ। ঘটনায় নার্সিংহোম ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে থানায় ডায়েরি করেছে পরিবার।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা
  • শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ০২:১১

 

এক অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর এলাকা। জন্মের পরই নবজাতককে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই শিশুই কয়েক ঘণ্টা পর জীবিত অবস্থায় ফিরে এল পরিবারের সামনে। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বরূপনগরের গোবিন্দপুরের পূর্ব পোলতা গ্রামের বাসিন্দা রুবিনা পরভিন। তিনি একটি স্থানীয় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন। সেখানেই গত ১৮ তারিখ বিকেল প্রায় পাঁচটা নাগাদ তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক বিকাশ মণ্ডল পরিবারকে জানান যে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এরপর কাগজে মুড়ে শিশুটির ‘দেহ’ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

শোকস্তব্ধ পরিবার শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে আসে। রাত প্রায় ন’টা নাগাদ কবর দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। ঠিক তখনই কাগজ খুলতেই পরিবারের সদস্যরা চমকে ওঠেন। দেখা যায়, শিশুটি নড়াচড়া করছে। কেঁদে উঠছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মা রুবিনা পরভিন এক মুহূর্তও দেরি করেননি। তড়িঘড়ি শিশুটিকে নিয়ে বাবা ইয়ারাফ মোল্লা এবং ঠাকুমা মাজিদা বিবি বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ছুটে যান। বর্তমানে সেখানে মা ও নবজাতক দু’জনেই চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের দাবি, মা ও সন্তানের সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।

এই ঘটনার পর পরিবার ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। শিশুটির বাবা ইয়ারাফ মোল্লার প্রশ্ন, কীভাবে একজন চিকিৎসক জীবিত শিশুকে মৃত ঘোষণা করলেন। দোষীদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার পর মাজিদা বিবি বসিরহাট থানায় একটি জেনারেল ডায়েরি করেছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছেও জানানো হয়েছে। যদিও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। তবে পুলিশ তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই চিকিৎসা ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তের পরই পুরো ঘটনার সত্যতা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


Share