Special Intensive Rivision

এসআইআর-এর পরে ৬০ লক্ষ ভোটার বিচারাধীন, প্রতিবাদে তৈরি হল বিশেষ ‘মঞ্চ’, জেলার ভলান্টিয়ার নিয়োগ

ফোরামের নাম ‘সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চ’। সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী ৭ মার্চ, শনিবার, কলকাতায় টি-বোর্ড থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, লক্ষ লক্ষ মানুষকে ‘বিচারাধীন’ বা ‘বাতিল’ তালিকায় রেখে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন করা উচিত নয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০১:৪৯

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ বা ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং উত্তর দিনাজপুর এই পাঁচ জেলায়ই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম এই তালিকায় রয়েছে। বিষয়টি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে একদিকে রাজনৈতিক দলগুলি নতুন ভোটার-বিন্যাস নিয়ে বিশ্লেষণে ব্যস্ত, অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদের একাংশ ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের অধিকার রক্ষার দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ফোরাম গড়ে তুলেছেন। ফোরামের নাম ‘সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চ’। সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী ৭ মার্চ, শনিবার, কলকাতায় টি-বোর্ড থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, লক্ষ লক্ষ মানুষকে ‘বিচারাধীন’ বা ‘বাতিল’ তালিকায় রেখে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন করা উচিত নয়।

শুধু মিছিল বা জনসভায় সীমাবদ্ধ না থেকে জেলাভিত্তিক ভলান্টিয়ার টিমও গঠন করা হচ্ছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশনের কাজে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করার পাশাপাশি ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের আইনি লড়াইয়ে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মঞ্চের সদস্যরা। ইতিমধ্যেই একটি আইনি সেলও তৈরি হয়েছে। প্রতিটি জেলায় বিএলওদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘অ্যাজুডিকেশন’-এর আওতায় থাকা নামগুলি চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

চিত্রশিল্পী তোসিফ হক এবং অধ্যাপক সফিউল আলম মল্লিক-সহ কয়েকজন সমমনস্ক ব্যক্তির উদ্যোগে সমাজ মাধ্যমে এই মঞ্চের সূচনা হয়। মাত্র দু’দিনের মধ্যেই এতে হাজারের বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে জেলাভিত্তিক গ্রুপ তৈরি করে তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে। এই ফোরামে স্কুলশিক্ষক, অধ্যাপক, গায়ক, আইনজীবী, লেখক, সমাজকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে পরিযায়ী শ্রমিক পর্যন্ত বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত রয়েছেন।

সম্প্রতি কলকাতার ৮৯ নম্বর ওয়ার্ডের চারু মার্কেট এলাকার একটি বুথে এক বিজেপি সমর্থক মহিলার বিরুদ্ধে ৪০ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা চারু মার্কেট থানায় ওই মহিলার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। খড়দহ বিধানসভা এলাকাতেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। পরে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের কারও নামই তালিকা থেকে বাদ পড়েনি বলে জানা যায়।

এই ধরনের ঘটনার উল্লেখ করে মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক এবং তথ্যচিত্র পরিচালক কস্তুরী বসু বলেন, 'এই ঘটনাগুলি সামনে এসেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ফর্ম-৭ জমা দিয়ে কত বৈধ ভোটারের নাম কাটা হয়েছে, বা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্য রাজ্যেও একই ভাবে নাম কাটা হয়েছে। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন প্ল্যান করেই এই কাণ্ড ঘটাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বলব আপনারা নিজেরাই এই ভুয়ো অভিযোগগুলো খুঁজে বের করে আমাদের জানান। আমরা এফআইআর করতে বা মামলা করতে সহায়তা করব।' তিনি সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছেন, এমন ভুয়ো অভিযোগ বা নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা খুঁজে বের করে ফোরামকে জানাতে। প্রয়োজনে এফআইআর বা আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শুধু ‘বিচারাধীন’ নয়, অন্যায়ভাবে ডিলিট হওয়া ভোটারদের ক্ষেত্রেও এই মঞ্চ কাজ করবে বলে দাবি করেছেন তিনি।

মঞ্চের সদস্যরা বিজেপি-বিরোধী সব দল, সংগঠন ও ব্যক্তিকে এই ইস্যুতে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মঞ্চের এক আহ্বায়ক, পেশায় অধ্যাপিকা আফরোজা খাতুন বলেন, 'এটা দলীয় স্বার্থ দেখার সময় নয়। ভোটাধিকার হরণের চক্রান্ত রোখাই কর্তব্য হওয়া উচিত।' গত দু’তিন মাস ধরে নির্বাচন কমিশনের ‘এসআইআর’ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে আসা বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং ব্যক্তিও এই মঞ্চে যোগ দিয়েছেন।

এদিকে, সমস্ত ‘বিচারাধীন’ ভোটারকে ভোটাধিকার দেওয়ার দাবিতে গত মাসে গড়ে ওঠা আরেক সংগঠন ‘সংগ্রামী গণমঞ্চ’-ও আন্দোলনে নেমেছে। বৃহস্পতিবার তারা মিছিল করে সিইও দফতর এবং কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে।


Share