Murder Case

সামান্য কথার খেলাপ, আরও তাতেই বিপত্তি! মদ্যপ বাবার মারধরে মৃত্যু ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর, গ্রেফতার অভিযুক্ত

স্বামীর বিরুদ্ধে সরব হন সোনালির মা প্রমীলা কুজুর। খড়িবাড়ি থানায় তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:১৯

সামান্য কথার খেলাপ করেছিল মেয়ে। আর তাতেই বাবার হাতে মৃত্যু হল তার। বাবার বেধড়ক মারধর। আর তাতেই মৃত্যু হল ১৪ বছরের কিশোরীর। শিলিগুড়ির খড়িবাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত কিশোরীর নাম সোনালি কুজুর। সে স্থানীয় একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঘটনায় কিশোরীর মা প্রমীলা কুজুরের লিখিত অভিযোগ করেছেন। তার ভিত্তিতেই অভিযুক্ত বাবা সায়ন কুজুরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়িবাড়ির বুড়াগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাটাগছ এলাকায় বাড়ি সোনালিদের। রবিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বাড়ির রান্নাঘরে সোনালি কাজ করছিল। সেই সময় তার মা প্রমীলা কুজুর মাঠ থেকে গবাদি পশু আনতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ওই সময় মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরেন সায়ন কুজুর। রান্নাঘরে কাজ করতে থাকা মেয়েকে তিনি কিছু বলেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে বাবার কথা শুনতে পায়নি সোনালি। তা নিয়েই মেয়ের উপর তিনি চড়াও হন।

অভিযোগ, এরপর মদ্যপ অবস্থায় মেয়েকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করেন। সোনালির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। ততক্ষণে মারধরের জেরে কিশোরী অচেতন হয়ে পড়েছিল। প্রতিবেশীরাই তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খড়িবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান।

পরিবারের সদস্যরাও হাসপাতালে পৌঁছোন। অভিযোগ, ঘটনার আসল কারণ গোপন করতে পরিবারের কয়েকজন সদস্য চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনায় জখম হয়েছে সোনালি। প্রাথমিক চিকিৎসার পরও কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এরপর তাকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনালীর মৃত্যু হয়।

অভিযোগ, হাসপাতালেও পুরো ঘটনা জানানো হয়নি। ফলে সাধারণ মৃত্যু হিসেবেই নির্দিষ্ট সময়ে কিশোরীর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর বাড়িতে মৃতদেহ নিয়ে আসার পর ঘটনার আসল বিষয়টি সামনে আসে। শুরু হয়ে যায় সৎকারের প্রস্তুতিও। সেই সময়ই স্বামীর বিরুদ্ধে সরব হন সোনালির মা প্রমীলা কুজুর। খড়িবাড়ি থানায় তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্তে নামে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। রবিবার রাতেই অভিযুক্ত সায়ন কুজুরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বুধবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়েছে। ১৪ বছরের কিশোরীর এমন মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।


Share