Special Intensive Rivision

‘বিভাগীয় তদন্ত বন্ধ করিনি, শুধু অনুমতি চেয়েছি’, ইআরও–এইআরও সাসপেন্ড নিয়ে কমিশনকে চিঠি নবান্নের

এই বিষয়েই অনড় থাকে নির্বাচন কমিশন। তার মধ্যেই সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও কর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে নবান্ন কমিশনের কাছে আর্জি জানায়, যেন তাঁদের ক্ষেত্রে ‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’ না দেওয়া হয়। কিন্তু সেই আর্জির পরই কমিশনের তরফে আরও কড়া চিঠি পাঠানো হয়।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৪

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দুই ইআরও ও দুই এইআরও-কে সাসপেন্ড করার ঘটনায় রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে কমিশনকে চিঠি দিল নবান্ন। সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, "আমরা বিভাগীয় কার্যক্রম বন্ধ করিনি। বন্ধ করা যায় কিনা তার অনুমতি চেয়েছি মাত্র।"

প্রসঙ্গত, রাজ্যের ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে নাম তোলা-সমেত একাধিক অনিয়মের অভিযোগে চার আধিকারিক ও এক কর্মীর বিরুদ্ধে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-কে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। এর পরিপ্রেক্ষিতে নবান্ন কমিশনকে আগেই জানায়, আপাতত চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হচ্ছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। তবে এফআইআর দায়েরের জন্য আরও কিছুটা সময় চাওয়া হয়। যদিও কয়েক মাস কেটে গেলেও রাজ্যের তরফে এখনও এফআইআর করা হয়নি।

এই বিষয়েই অনড় থাকে নির্বাচন কমিশন। তার মধ্যেই সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও কর্মীর পাশে দাঁড়িয়ে নবান্ন কমিশনের কাছে আর্জি জানায়, যেন তাঁদের ক্ষেত্রে ‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’ না দেওয়া হয়। কিন্তু সেই আর্জির পরই কমিশনের তরফে আরও কড়া চিঠি পাঠানো হয়।

মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতরের সচিব জানতে চান, কমিশনের নির্দেশ কেন মানা হয়নি, কোন দফতর এর জন্য দায়ী এবং পুরো বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

কমিশনের তরফে জানানো হয়, ৫ অগস্ট ২০২৫ তারিখে পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (এইআরও) বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্দেশে সাসপেনশন, উপযুক্ত বিভাগীয় তদন্ত শুরু এবং দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে এফআইআর দায়েরের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি, চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রাজ্যের পাঠানো চিঠিতে কমিশনকে জানানো হয়, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও তথাগত মণ্ডল মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন। অন্যদিকে, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে কেবল সামান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তেই আপত্তি তোলে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়, কমিশনের সুপারিশে শুরু হওয়া কোনও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া বন্ধ করা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বাধ্যতামূলক পরামর্শ করতে হবে। সেই পরামর্শ ছাড়া নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত বৈধ বলে গণ্য হবে না।

বৃহস্পতিবার কমিশনের সেই চিঠির জবাব দিয়ে নবান্ন জানায়, রাজ্য সরকার কোনও বিভাগীয় প্রক্রিয়া বন্ধ করেনি। কেবলমাত্র জানতে চাওয়া হয়েছে— সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করা সম্ভব কি না। সব মিলিয়ে, চার আধিকারিককে ঘিরে নির্বাচন কমিশন ও নবান্নের মধ্যে এখনও চিঠি চালাচালি চলছেই।


Share