Customs Scam Exposed

শুল্ক দফতরের নাম ভাঙিয়ে ৩৫ লক্ষ টাকা প্রতারণা! সুপুরি ছাড়ানোর নামে ফাঁদে তিন ব্যবসায়ী

শুল্ক দফতরের নাম ভাঙিয়ে ৩৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ। বাজেয়াপ্ত সুপুরি ফেরত দেওয়ার আশ্বাসে টাকা নেওয়ার পর উধাও অভিযুক্তরা। শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ।

শেক্সপিয়র সরণি থানা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:১৩

শুল্ক দফতরের নাম করে প্রতারণার অভিযোগে শেক্সপিয়র সরণি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন তিন ব্যবসায়ী। তাঁদের দাবি, উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক সুপুরি ছাড়ানোর নাম করে তাঁদের কাছ থেকে মোট ৩৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বজবজ ও বড়বাজার এলাকা থেকে কয়েক বস্তা সুপুরি কিনে গত মার্চ মাসে দুটি মাছ ধরার ট্রলারে তোলেন ওই ব্যবসায়ীরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পেটুয়াঘাট থেকে ট্রলার দুটি রওনা দেয়। অভিযোগ, মাঝপথে উপকূলরক্ষী বাহিনী সুপুরিগুলিকে ‘বেআইনি’ বলে বাজেয়াপ্ত করে এবং শুল্ক দফতরের হাতে তুলে দেয়। সেই সঙ্গে ২৪ জন মৎস্যজীবীকে গ্রেফতার করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। পরে অবশ্য ট্রলার-সহ মৎস্যজীবীদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

তদন্তকারীদের কাছে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজেয়াপ্ত সুপুরি গোডাউনে রাখা হয়েছে জানিয়ে প্রথমে ৪২ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। দরদাম করে শেষ পর্যন্ত ৩৫ লক্ষ টাকায় রফা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এক্সাইড এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কয়েকজনের হাতে ওই টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল।

এরপর এক শুল্ককর্তার নামে একটি চিঠি দেওয়া হয় তাঁদের। চিঠিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রাকে করে সুপুরি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সুপুরি ফেরত মেলেনি। পাশাপাশি, যে সব ফোন নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছিল, সেগুলিও পরে বন্ধ হয়ে যায়।

এতে সন্দেহ দানা বাঁধলে খোঁজ খবর শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। তখনই জানা যায়, যিনি প্রথম তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তিনি জালিয়াতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই আলিপুরদুয়ার থানার হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। এরপরই তিন ব্যবসায়ী শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশ এখন তদন্ত দেখছে, অভিযুক্ত শুল্ককর্তা আদৌ এই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত কি না, নাকি তাঁর নাম ভাঙিয়ে টাকা হাতানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণও সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ট্রলারে সুপুরি বাজেয়াপ্ত করার দাবি ও পরবর্তী আর্থিক লেনদেনের পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে শেক্সপিয়র সরণি থানা।


Share