School Service Commission

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মামলা, অথচ নিজেরাই টেন্টেড! এসএসসি-র প্রকাশিত তালিকায় একাধিক মামলাকারীর নাম

এসএসসি ২০১৬ নিয়োগ মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়। চাকরি না-পাওয়া মামলাকারীদেরই একাংশ ‘দাগি’ বলে প্রকাশ্যে এল। লক্ষ্মী তুঙ্গা-সহ একাধিক নাম তালিকায়, প্রশ্নের মুখে পুরো নিয়োগ বাতিলের বৈধতা।

স্কুল সার্ভিস কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:১০

স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরি না-পাওয়া যে প্রার্থীরা পরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মামলা করেছিলেন, তাঁদেরই একাংশ যে নিজেরাও ‘দাগি’ (টেন্টেড), তা এ বার প্রকাশ্যে এল। মামলাকারীদের অন্যতম নন্দীগ্রামের লক্ষ্মী তুঙ্গার নামও রয়েছে সেই তালিকায়। এই মামলার জেরেই প্রথমে কলকাতা হাই কোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে।

জানা গিয়েছে, লক্ষ্মী তুঙ্গা-সহ কয়েক জন মামলাকারী ২০১৬ সালের ওয়েটিং লিস্টে ছিলেন এবং সিবিআই তদন্তে তাঁদের ওএমআর শিটে অসঙ্গতির উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, তাঁরা চাকরি না পেলেও ওএমআর ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমেই ওয়েটিং লিস্টে জায়গা পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। বুধবার গভীর রাতে এসএসসি-র প্রকাশিত তালিকায় এই তথ্য সামনে আসতেই চাকরিহারা ‘আন-টেন্টেড’ বা ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, এমন দাগি মামলাকারীদের আবেদনের ভিত্তিতে পুরো নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত কতটা বৈধ ছিল।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা এসএসসি-কে নির্দেশ দেন, ২০১৬ সালের নিয়োগে ওয়েটিং লিস্টে থাকা দাগি প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করতে, যাতে ভবিষ্যতের নিয়োগে কোনও ভাবেই টেন্টেড প্রার্থীরা সুযোগ না পান। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার রাতে এসএসসি তাদের ওয়েবসাইটে শিক্ষাকর্মী এবং নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক পদে ২০১৬ সালের ওয়েটিং লিস্টের দাগিদের তালিকা প্রকাশ করে।

তালিকা অনুযায়ী, নবম-দশমে ওয়েটিং লিস্টে থাকা দাগি শিক্ষক-পদপ্রার্থীর সংখ্যা ২৫০ জন এবং গ্রুপ সি ও ডি শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা এক হাজার ৮৫৩ জন। সিবিআই তদন্তে এঁদের সকলের ওএমআর শিটে অসঙ্গতির কথা উল্লেখ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় দাগি প্রার্থীদের নাম, রোল নম্বর, বাবা বা স্বামীর নাম এবং জন্মতারিখ-সমেত বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকাতেই লক্ষ্মী তুঙ্গা-সহ একাধিক মামলাকারীর নাম থাকায় ক্ষুব্ধ চাকরিহারা যোগ্য প্রার্থীরা। ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর প্রতিনিধি মেহবুব মণ্ডলের অভিযোগ, ২০১৬ সালের নিয়োগ বাতিল ছিল পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তাঁর দাবি, তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং নির্দোষ যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্যানেল বাতিল করানো হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই।

অন্য দিকে, লক্ষ্মী তুঙ্গার অন্যতম আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের বক্তব্য, ‘সবার ওএমআর স্কুল সার্ভিস কমিশন কিন্তু এখনও প্রকাশ করেনি। চাকরি দেওয়ার সময়েও কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। লক্ষী তুঙ্গা নিজে চাকরি পাননি। ওঁর নম্বর যে বেশি ছিল, সেটা তাঁর জানা ছিল না। নম্বর না জেনেই মামলা করেছিলেন।’

এসএসসি–র চেয়ারপার্সন সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে কমিশন তালিকা আপলোড করেছে। কোনও প্রার্থী বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কমিশনের কোনও বক্তব্য নেই।’

উল্লেখ্য, এর আগেও কমিশন ১ হাজার ৮০৬ জন দাগি শিক্ষক-শিক্ষিকার এবং গ্রুপ সি ও ডি-তে কর্মরত ৩ হাজার ৫১২ জন দাগি শিক্ষাকর্মীর তালিকা প্রকাশ করেছিল। সে বার তাঁরা দাগি হয়েও চাকরি করছিলেন। আর এ বার দেখা যাচ্ছে, চাকরি না-পাওয়া মামলাকারীদের একটি বড় অংশও একই ভাবে দাগি।


Share    

SSC