Nipah Virus

রাজ্যে বাদুড়ে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি নেই, মিলেছে স্বস্তির ইঙ্গিত

নিপা আতঙ্কে স্বস্তি রাজ্যে। সমীক্ষায় ধরা ন’টি বাদুড়ের শরীরেই ভাইরাস মেলেনি, মিলেছে মাত্র একটি অ্যান্টিবডি। আক্রান্ত নার্সদের সংস্পর্শে আসাদের রিপোর্টও নেগেটিভ। সতর্ক নজরে স্বাস্থ্য দফতর।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:৩৩

নিপা সংক্রমণ ঘিরে আতঙ্কের আবহে বড়সড় স্বস্তির খবর মিলল রাজ্যে। সমীক্ষার জন্য ধরা ন’টি বাদুড়ের শরীরে আরটিপিসিআর পরীক্ষায় নিপা ভাইরাসের কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে একটি বাদুড়ের রক্তে নিপা ভাইরাসের অ্যান্টিবডি মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অর্থ ওই বাদুড়টি অতীতে কোনও এক সময়ে নিপার বাহক ছিল, বর্তমানে নয়।

রাজ্যে আক্রান্ত দুই নার্সের সংক্রমণের উৎস এখনও অজানা থাকায়, সেই সূত্র খুঁজতেই বাদুড় ধরে সমীক্ষা শুরু করে বন দফতর ও পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির প্রতিনিধি দল। সূত্রের খবর, মধ্যমগ্রামের কলকাতা-বসিরহাট রোড সংলগ্ন কুবেরপুর এলাকা থেকে মোট ন’টি বাদুড় ধরা হয়। প্রতিটি বাদুড়ের শরীর থেকে তিন ধরনের সোয়াব সংগ্রহ করে আরটিপিসিআর পরীক্ষা করা হলে সব রিপোর্টই নেগেটিভ আসে। যদিও একটি বাদুড়ের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি পজিটিভ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই বাদুড়গুলির কারও শরীরেই নিপা ভাইরাস সক্রিয় নেই। তবুও সতর্কতার জন্য সমীক্ষা চলবে।

এদিকে, বারাসতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরুণ নার্সের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। আরও একবার আরটিপিসিআর রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হতে পারে। তবে অপর এক নার্সের অবস্থা এখনও সংকটজনক এবং তিনি ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছেন। পাশাপাশি, ওই দুই নার্সের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের যে সব নমুনা কল্যাণী এইমস ও বেলেঘাটার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনে পাঠানো হয়েছিল, সেগুলির সবকটিই নেগেটিভ এসেছে।

পরিস্থিতি আপাতত অনুকূলে থাকলেও কোনও ঢিলেমি দিতে নারাজ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। নিপা প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার ‘ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’-এর উদ্যোগে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাজ্য প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও ভাইরাস গবেষক সিদ্ধার্থ জোয়ারদার জানান, দুই নার্সের সংক্রমণের ঘটনা অতিমারী প্রতিরোধ ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ ‘অ্যাসিড টেস্ট’। তিনি আরও বলেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে অতিমারী প্রতিরোধে জোর দেওয়া হয়েছে এবং জাতীয় স্তরে নির্দেশিকা তৈরি হয়েছে। সেই সূত্রেই নাগপুরে গড়ে উঠেছে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়ান হেলথ’।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও ‘ওয়ান হেলথ’ কমিটি গঠনের পথে এগোচ্ছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. অনিতা নন্দী নিপা আক্রান্তদের চিকিৎসার নির্দেশিকা ও পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি, স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের শিক্ষক চিকিৎসক সমরেন্দ্রনাথ হালদার নির্দেশিকায় উল্লেখিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের সঠিক মাত্রা ও প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে আলোকপাত করেন।


Share