Anandapur Fire Incident

বৃহস্পতিবার ২০ জন বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে আনন্দপুরের ঘটনাস্থলে যাবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু, মিছিল করবেন থানা পর্যন্ত

বুধবার শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনেই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আনন্দ-অনুষ্ঠান, আইপ‍্যাকের তৈরি করা নাটকে অংশগ্রহণ করতে ব‍্যস্ত রয়েছেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার সময় তিনি পাননি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলারও সময়ও তিনি পাননি।”

রাজ্যের
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৫

আনন্দপুরের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২৩ জনের নামে থানায় মিসিং ডায়েরি হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে যাবেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে আরও ২০ জন বিজেপি বিধায়ক থাকবেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। এ ছাড়াও, সেখান থেকে নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলও করবেন তিনি। বুধবার শুভেন্দু বলেন, “গোটা তিন দিন ধরে আনন্দপুরে যা হয়েছে তাতে মনে হয়েছে রাজ্যে কোনও সরকার নেই।”

বুধবার শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনেই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আনন্দ-অনুষ্ঠান, আইপ‍্যাকের তৈরি করা নাটকে অংশগ্রহণ করতে ব‍্যস্ত রয়েছেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার সময় তিনি পাননি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলারও সময়ও তিনি পাননি।” বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, “যারা মারা গিয়েছেন, তাদের মধ্যে কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ নেই। তাই মুখ্যমন্ত্রীর রাজধর্ম পালন করার নুন্যতম সৌজন্য দেখাতে পারেনি।”

বিরোধী দলনেতার কথায়, রাজ‍্য সরকারের কাছে নিখোঁজের পরিবারেরা কোনও সাহায্য পাননি। তাই বিজেপির কর্মীরা অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে আসা পরিবারের লোকজনকে সেখানে রাখার ব‍্যবস্থা করা হয়েছে। বিজেপির কর্মীরা তাঁদের সাদ্ধমতো যত্ন নিয়েছে। বিধায়ক অশোক দিন্দা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে লাগাতার কাজ করছে। আমি, সুকান্ত মজুমদার-সহ বাকি বিজেপির নেতারা লাগাতার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছি।”

আনন্দপুরের যে জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে গুদামগুলি জলাভূমি ভরাট করে তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে ছিল না কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও। তার পরেও কীভাবে রমরমিয়ে চলছিল ব‍্যবসা তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। এখনও পর্যন্ত ১৯ জন মারা গিয়েছে বলে খবর এসেছে। ২৩ জনের নামে থানায় মিসিং ডায়েরি করা হয়েছে। পরের দিন ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তারও অনেক পরে গিয়েছেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মনে করছেন, এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে দুর্নীতি রয়েছে। সরকারের উদাসীনতাও রয়েছে। অভিযোগ করে নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু বলেন, “স্থানীয় বিধায়ক, পুলিশ, পুরসভা এবং কারখানার মালিকের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে। জলা জমি ভরাট করে কারখানা তৈরি হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ ব‍্যবস্থা না রেখে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। একাধিক ঘটনা ঘটার পরেও দমকল বিভাগ কোনও শিক্ষা নেয়নি সরকার। নিজেদের সংশোধনও করেনি।”

দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, “যেভাবে মেসিকান্ডের পরে ক্রিড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের অপদার্থতা সামনে এসেছিল, ঠিক এখানেও দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর অপদার্থতা স্বীকার করা উচিত। তার পরে পদত্যাগ করা উচিত।” তাঁর দাবি, এই ঘটনার কোনও কর্মরত বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত হোক। স্থানীয় বিধায়ক, পুলিশ, পুরসভা এবং শাসকদলের সঙ্গে যুক্তদের তদন্তের আওতায় আনার দাবিও তিনি জানিয়েছেন।

আগামীকালই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বে ২০ জন বিজেপি বিধায়ক ঘটনাস্থলে যাবে। সে কথা শুভেন্দু অধিকারী নিজেই জানিয়েছেন। এর পরে নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলেও পা মেলাবেন তিনি। তিন বলেন,“যথাযথ ভাবে সেখানে কাজ হোক। পুলিশ, ফরেন্সিক এবং দমকলের কাজে যাতে কোনও বাধা না হয় তাই বড় দল নিয়ে আমরা যাব না। সেখান থেকে প্রতিবাদ মিছিল করে নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত যাব। সেখানেই বিজেপি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখাবে।” শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “যদি তাতেও কোনও লাভ না হয় তাহলে বিরোধী দলনেতা যেখানে যাওয়ার সেখানে যাবে। পারলে সচিবালয়ের (নবান্ন) সামনে নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাব। সেখানেও শান্তিপূর্ণ ধর্ণা করব।”


Share