Anandapur Incident

মুখ্যমন্ত্রী কেন আসেননি! ১৬৩ ধারা উপেক্ষা করেই আনন্দপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী

আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় গত রবিবার দু’টি গুদামে আগুন লেগে যায়। তার মধ্যে ছিল ওয়াও মোমো-র গুদাম। অপরটি ডেকরেটার্সের গুদাম। ওই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মিলেছে কিছু দেহাংশও। এখনও পর্যন্ত এমন ২১টি দেহাংশের সন্ধান মিলেছে। সূত্রের খবর, ২৭ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে থানায়।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৭

ঘোষণা করেছিলেন- দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে আনন্দপুরের ঘটনাস্থলে যাবেন। তার পরেই এলাকায় জারি হয়ে যায় ১৬৩ ধারা (আগে ১৪৪ ধারা)। বৃহস্পতিবার সেখানে মিছিল করার অনুমতি প্রশাসন না দিলে কলকাতা হাই কোর্ট থেকে তা ইতিমধ্যেই আদায় করে নিয়ে নিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু বৃহস্পতিবার ১৬৩ ধারা উপেক্ষা করেই কয়েক জন বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে আনন্দপুরের নাজিয়াবাদ এলাকায় যান শুভেন্দু। বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, ঘটনার পরে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে আসেননি। তাই তিনি দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন। যদিও ১০০ মিটার দূরে থেকেই ঘটনাস্থল দেখেছেন।

বৃহস্পতিবার আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলের পরিদর্শনের যাওয়ার কথা ছিল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর। কিন্তু ঘটনাস্থলে জমায়েতের কারণে তথ‍্যপ্রমাণ লোপাট, জরুরি কাজে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে বারুইপুর আদালতের অনুমতি নিয়ে ১৬৩ জারি করে জমায়েত নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্দেশের বিজ্ঞপ্তি গার্ডরেলে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়।

এ দিন তা উপেক্ষা করেই দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছোন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন বেশ কয়েক জন বিজেপি বিধায়ক। কিছুটা দূরে গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন। হাঁটতে হাঁটতে ঘটনাস্থলে দিকে যান। বলেন, “আমরা বিধায়ক। আমরা আইন মেনে চলি। চেষ্টা করব, ১০০ মিটার দূর থেকেই ঘটনাস্থল দেখার।”

বিরোধী দলনেতা জানান, এখনও ২০ জনের বেশি নিখোঁজ। মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এখনও ঘটনাস্থলে যাননি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী তাঁর রাজধর্ম পালন করেননি। তাঁর বাড়ি এখান থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে। তাঁর আসা উচিত ছিল।”

আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় গত রবিবার দু’টি গুদামে আগুন লেগে যায়। তার মধ্যে ছিল ওয়াও মোমো-র গুদাম। অপরটি ডেকরেটার্সের গুদাম। ওই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মিলেছে কিছু দেহাংশও। এখনও পর্যন্ত এমন ২১টি দেহাংশের সন্ধান মিলেছে। সূত্রের খবর, ২৭ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে থানায়।

ওই অগ্নিকাণ্ডের পর রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘটনাস্থল থেকে ঘুরে গিয়েছেন। রাজ্যের অপর মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যান। শুভেন্দু বলেন, “কাউকে বাধা দেয়নি। আমি কাল দুর্গাপুর থেকে বলেছি, আগামিকাল ২০ জন বিধায়ক নিয়ে দূর থেকে একটু দেখব। এটি আমাদের কর্তব্য। রাজ্যের শাসকদল কর্তব্য পালন করেনি। তাই বিরোধী দলনেতা এবং বিরোধী দলের বিধায়কদের কাজ এটা। এই কারণে আমাদের আটকানোর জন্য রাতে ১৬৩ ধারা জারি করেছে। এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, ১০ লক্ষ টাকা করে দিলে হবে না। তাঁদেরকে ৫০ লক্ষ টাকা করে দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “কথায় কথায় চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এ ক্ষেত্রেও মৃতদের পরিবারের প্রতি একজনকে চাকরি দিতে হবে।” এর পাশাপাশি নরেন্দ্রপুর থানার আইসিকে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করতে হবে বলেও দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, “গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড ভেঙে দিতে হবে। এ ছাড়াও, আসল মধু যাঁরা খেয়েছেন, সেই সব মধুখোরদের অবিলম্বে জেলে পুরতে হবে।” জলাভূমি বুজিয়ে কেন এভাবে ব‍্যবসা চলছিল, তার দায় সরকারকেই নিতে হবে বলেও দাবি করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, “যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের বয়স ২৫-২৬ বছর। দেখলেই চোখে জল এসে যাচ্ছে। এখানে টাকা ছাড়া আর কিছু নেই। টাকা নিয়ে গোটা সোনারপুরকে বেচে দিয়েছে তৃণমূলের চোরেরা।”

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার আনন্দপুরে শুভেন্দুদের একটি মিছিলও করার কথা ছিল। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেই মিছিল বাতিল হয়ে গিয়েছে। পরে শুক্রবার ওই মিছিল করার জন্য হাই কোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আদালতের নির্দেশ, গড়িয়ার শীতলা মন্দির বা শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশন থেকে মিছিল শুরু করা যাবে। দু’হাজারের বেশি মিছিলে অংশ নেওয়া যাবে না। সকাল ১১টা থেকে ৩টের মধ্যে মিছিল শেষ করতে হবে। নরেন্দ্রপুর থানার ২০০ মিটার আগে মিছিল শেষ করতে হবে। বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার কিছু ক্ষণের মধ্যেই নাজিরাবাদে পৌঁছে যান বিরোধী দলনেতা।


Share