CCTV Camera

ক‍্যামেরা আছে, রিচার্জ নেই! রাস্তায় অকেজো একাধিক সিসি ক্যামেরা, অপরাধের নিয়ন্ত্রণ কী ভাবে, অডিট রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন পুলিশের অন্দরেই

ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু লাইভ ফিড কন্ট্রোল রুমেই আসছে না। আবার কিছু জায়গায় সিসি ক্যামেরায় যে সিম ব্যবহার করা হয়েছে তা সিভিক ভলান্টিয়ারদের নামে নেওয়া। তাতে আবার রিচার্জ করা হয়নি। ফলে সেটাও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:০৪

কোনও অপরাধের ধরণ বা অপরাধীর গতিবিধি চিহ্নিত করতে সিসি ক্যামেরার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল জমানায় ঢোল পিটিয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, সম্প্রতি পুলিশের অভ‍্যন্তরীণ অডিট হয়েছে। তাতে রাস্তায় লাগানো সিসি ক্যামেরা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু লাইভ ফিড কন্ট্রোল রুমেই আসছে না। আবার কিছু জায়গায় সিসি ক্যামেরায় যে সিম ব্যবহার করা হয়েছে তা সিভিক ভলান্টিয়ারদের নামে নেওয়া। তাতে আবার রিচার্জ করা হয়নি। ফলে সেটাও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, কোনও অপরাধ হলে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করতে সিসি ক্যামেরা অত‍্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তার সাহায্য নেয়। এ ছাড়াও, যানজট এবং কোথাও কোনও মিটিং-মিছিল হলে তার ওপর নজরদারি চালানোর জন‍্য রাস্তার মোড়ে লাগানো সিসি ক্যামেরার ফিড পৌঁছে যায়। কোথাও কোনও সমস্যা হলে কন্ট্রোল রুম থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশ মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশকর্মীদের কাছে পৌঁছে যায়। দ্রুত সমস‍্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হয়।

এই সমস্ত ক‍্যামেরা পুলিশের  তরফেই বসানো হয়েছে। তৃণমূল জমানায় জায়গায় জায়গায় আনুষ্ঠানিক ভাবে সিসি ক্যামেরা বসানোর যজ্ঞ হয়েছিল। পালাবদলের পরে তা নিয়ে অভ‍্যন্তরীণ অডিট হয়েছে। ভবানী ভবন সূত্রের খবর, ক‍্যামেরা বসানোর পরে কয়েক মাস তা ঠিকঠাক চলেছিল। তার পরে বিকল হয়ে যায়। এটি একটি যন্ত্র যা বিকল হতেই পারে। কিন্তু তার জন‍্য রক্ষণাবেক্ষণের ব‍্যবস্থা রয়েছে। সূত্রের খবর, বাৎসরিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির পূনর্নবীকরণই হয়নি। অথচ খাতায়কলমে সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে দেখানো হয়েছে। মেরামতি দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা তোলা হয়েছে। জেলাগুলি সেই খরচের হিসেবও সুন্দর ভাবে দেখিয়েছে।

অন‍্য দিকে, ক্যামেরার লাইভ ফিড সরাসরি থানা বা কন্ট্রোল রুমে আসার জন্য প্রথমে ইন্টারনেটের যোগাযোগ নেওয়া হয়েছিল। এক বছর পার হওয়ার আগেই ইন্টারনেটের রিচার্জ করা বন্ধ হয়ে যায় বলে ওই সূত্র দাবি করেছে। এর জেরে বেশিরভাগ ক‍্যামেরা থেকে লাইভ ফিড আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই থানা বা কন্ট্রোল রুম জানতেই পারত না এলাকায় কী হচ্ছে। অথচ মাসের পর মাস নেট রিচার্জ করা হয়েছে বলে টাকা উঠে গিয়েছে। এ ছাড়াও, কিছু কিছু থানার বাইরে একটি বা দু’টি সিসি ক‍্যামেরার ইন্টারনেট সংযোগ সিভিক ভলান্টিয়ারদের পরিচয়পত্র ব‍্যবহার করে নেওয়া হয়েছিল। সেই সমস্ত সিসি ক্যামেরার মালিক আবার সরকার নয়। সেই সমস্ত ক‍্যামেরা প্রসঙ্গে রাজ‍্য পুলিশের এক আধিকারিকের বক্তব্য, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপরে নজরদারি করার জন‍্য বসানো হয়েছিল। এমন অনেক ক‍্যামেরা চুরিও হয়ে গিয়েছে। সেটা আবার থানায় জিডি করে রেখে দেওয়া হয়েছে।

পালাবদলের পর পুলিশের ক্যামেরা নিয়ে অভ্যন্তরীণ অডিটে তৃণমূল জমানার দুর্নীতির এমনই চিত্র তথ্য উঠে এসেছে। সিসি ক‍্যামেরা থেকে লাইভ ফিড আসছে না তা কী আদৌ কোনও পুলিশ আধিকারীক জানতেন না নাকি দিনের পর দিন ইচ্ছাকৃত ভাবে এই কাজ করে যেতে প্রশয় দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভবানী ভবন সূত্রের খবর, এরপরই নতুন ক্যামেরা বসানো এবং রক্ষণাবেক্ষণ যোগ্য ক‍্যামেরাগুলি পরিবর্তন করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলি সামনে আসার পরই রাজ্য পুলিশের আধিকারিকেরা কোন কোন জেলায় ক্যামেরা খারাপ, তার তালিকা তৈরি করেছেন। সেগুলি বাতিল করে নতুন ক্যামেরা বসবে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নতুন কোম্পানির সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করা হবে বলে সূত্রের খবর।

ভবানী ভবন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রতিটি জেলাকে নিয়মিত সিসি ক্যামেরার স্টেটাস রিপোর্ট দিতে হবে। একইসঙ্গে জেলার নামে ইন্টারনেট যোগাযোগ ও সিমকার্ড দেওয়া হবে। প্রতি মাসে রিচার্জ হচ্ছে কি না, তার ওপর নজরদারি চলবে। ক্যামেরা থেকে সরাসরি ছবি কন্ট্রোল রুমে না এলে, তার কারণও ভবানী ভবনকে দর্শাতে জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


Share