Cyber Fraud

ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে পুরীর হোটেল বুকিং-এর নামে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা, মহারাষ্ট্র থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত

দেশের বিভিন্ন নামীদামি হোটেলের ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে অন্তত ৩০ জন গ্রাহককে ঠকিয়ে ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার ৮০৩ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রতারকেরা। অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলির সূত্র ধরে প্রতারকের সন্ধান পান তদন্তকারীরা।

ধৃতের নাম হুজাইফা সাবির দরবার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৩

পুরীর হোটেল বুকিং-এর নামে প্রতারণার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। ধৃত ব‍্যক্তি মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, মহারাষ্ট্রে বসেই কলকাতার কয়েক জনের সঙ্গে ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে হোটেল বুকিং-এর নামে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে মহারাষ্ট্র থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ ধৃতকে কলকাতার আদালতে হাজির করানো হবে।

ধৃত ব‍্যক্তির নাম হুজাইফা সাবির দরবার। ৪১ বছর বয়সী ব‍্যক্তি মহারাষ্ট্রের পুনের বাসিন্দা। সোমবার ভোর ৩টে নাগাদ তার অফিসে অভিযান চালিয়ে কলকাতা সাইবার থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের অফিস এবং ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি ল‍্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং পেনড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

গতবছরের মাঝামাঝি সময়ে ঘটনাটি ঘটেছে। সেই বছরের মে মাসে হবিবপুরের এক বাসিন্দা পুরীর হোটেল বুক করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন। জানা গিয়েছে, দেবজ‍্যোতি মল্লিক নামে ওই যুবক অনলাইনে একটি ওয়েবসাইট ‘পুরীহোটেলকলকাতাবুকিংগো’-থেকে হোটেল বুকিং করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু আদতে ওয়েবসাইটটি ভুয়ো। এর পরেই দেবজ‍্যোতিকে এক ব‍্যক্তি ফোন করেন। নিজেকে অনুজকুমার সোলাঙ্কি পরিচয় দেয়। প্রাথমিক ভাবে, অগ্রিম টাকা দেওয়ার জন্য দেবজ্যোতিকে মাত্র ১ টাকা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বলা হয়। এর পর ইউপিআই মারফত লেনদেনে গোলযোগের অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে বলা হয়, বাকি টাকা পাঠাতে হবে আশিস জেনা নামে আর এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে। তাঁর কথামতো ওই যুবক সেই অ্যাকাউন্টে সাড়ে চার হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। অভিযোগ সম্পূর্ণ অর্থ প্রদানের পরেও বুকিং নিশ্চিত করা হয়নি। ওই নম্বরগুলিতে বার বার ফোন করেও উত্তর মেলেনি।

এর পরেই পুলিশের দ্বারস্থ হন দেবজ্যোতি। এনসিআরপি পোর্টালে অভিযোগ দায়ের করেন। হরিদেবপুর থানায়ও অভিযোগ দায়ের করেন। অজ্ঞাতপরিচয় প্রতারকদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। তাতেই প্রকাশ্যে আসে আসল তথ্য। জানা যায়, শুধু দেবজ্যোতিকেই নয়, দেশের বিভিন্ন নামীদামি হোটেলের ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে অন্তত ৩০ জন গ্রাহককে ঠকিয়ে ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার ৮০৩ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রতারকেরা। অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলির সূত্র ধরে প্রতারকের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। শেষমেশ সোমবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত হুজাইফা সাবিরকে কলকাতায় নিয়ে আসা হবে। আজকে তাকে আদালতে হাজির করানো হবে।


Share