Mehul Choksi

পিএনবি কেলেঙ্কারির ঘটনায় মেহুল চোকসির পর ছেলে রোহন চোকসি, আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ ইডি-র

পিএনবি জালিয়াতি মামলায় নতুন মোড়। মেহুল চোকসির ছেলের বিরুদ্ধেও অর্থ পাচারের অভিযোগ ইডি-র। ট্রাইব্যুনালে দাবি, বাবার সঙ্গে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন রোহন চোকসি, যদিও এখনও কোনও এফআইআর বা চার্জশিটে নাম নেই।

আর্থিক মামলায় জড়াল মেহুল চোকসির ছেলের নাম
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:২৭

পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত পলাতক হীরা ব্যবসায়ী মেহুল চোকসি। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি ধরা পড়ে। এবার ইডি তাঁর ছেলে রোহন চোকসির বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ তুলল। ইডি দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনালের সামনে এই দাবি করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, বাবা মেহুল চোকসির সঙ্গেই অর্থ পাচারে সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলেন ছেলে রোহনও।

তবে, রোহান চোকসির নাম কোনও এফআইআর-এ ছিল না। এমনকী সিবিআই বা ইডি-র দায়ের করা কোনও অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ) মামলায়ও রোহান চোকসিকে অভিযুক্তও করা হয়নি।

ট্রাইব্যুনালের কাছে লিখিত আবেদনে ইডি জানিয়েছে যে, মেহুল চোকসি এমন কয়েকটি কোম্পানির পরিচালক ছিলেন যেগুলোর অস্তিত্ব কেবল কাগজে-কলমেই ছিল। কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থাটির মতে, কোনও প্রকৃত পণ্য কেনা-বেচা ছাড়াই কাল্পনিক লেনদেন দেখানো এবং অপরাধ জনিত অর্থ পাচারের জন্য এই ভুয়ো কোম্পানিগুলো তৈরি করা হয়েছিল।

ইডি ট্রাইব্যুনালকে আরও জানিয়েছে যে, রোহান চোকসি লাস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড নামে আরেকটি কোম্পানির ৯৯.৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক, যেখানে মেহুল চোকসি একজন পরিচালক।

ইডি-র মতে, তদন্তে আরও দেখা গিয়েছে যে- এশিয়ান ডায়মন্ড অ্যান্ড জুয়েলারি এফজেডই থেকে সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক মার্লিন লাক্সারি গ্রুপ প্রাইভেট লিমিটেডে প্রায় ৮১.৬ লক্ষ টাকা স্থানান্তরিত হয়েছিল। ইডির দাবি, এশিয়ান ডায়মন্ড অ্যান্ড জুয়েলারি এফজেডই সরাসরি এই কোম্পানিতে অপরাধ জনিত অর্থ স্থানান্তর করেছে।

পিএনবি-র আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই মেহুল চোকসির সংস্থা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত মোট দু'হাজার ৫৬৫ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। এর মধ্যে মুম্বইয়ের ওয়াকেশ্বর রোডের একটি ফ্ল্যাটও রয়েছে। এই ফ্ল্যাটটির মালিক রোহন চোকসি। তবে রোহনের দাবি, পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়েছে ২০১৫ থেকে ২০১৭-এর মধ্যে। এই ফ্ল্যাটের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। তাই ইডির বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত বেআইনি।

পাল্টা ইডি-র আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, মেহুল চোকসি ইচ্ছাকৃত ভাবেই ফ্ল্যাটটি তাঁর ছেলের নামে লিখে দিয়েছিলেন। ভবিষ্যতে জালিয়াতি ধরা পড়লে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই এই ‘পরিকল্পিত পদক্ষেপ’ করা হয়েছিল। এর পরেই ইডি দাবি করে, সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ থেকে স্পষ্ট যে, ব্যাঙ্ক জালিয়াতির পরে অর্থ পাচারে রোহনও যুক্ত ছিলেন।

তবে এখনও পর্যন্ত ইডি বা সিবিআইয়ের দায়ের করা কোনও এফআইআর বা চার্জশিটে রোহন চোকসির নাম নেই। চোকসি পরিবারের ঘনিষ্ঠদের দাবি, রোহন চোকসি অনেক দিন আগে থেকেই তাঁর বাবার থেকে ব্যবসা আলাদা করে নিয়েছেন। এমনকি, বাবার সঙ্গে তিনি কোনও যোগাযোগও রাখেন না।

প্রসঙ্গত, পিএনবি-তে ১৩ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি ধরা পড়ার কয়েক দিন আগে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে চোকসি ভারত ছেড়ে পালিয়ে যান। তিনি এখন বেলজিয়ামে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। অন্যদিকে নীরব মোদি লন্ডনের একটি কারাগারে বন্দি আছেন। 


Share