Murder Case

সরশুনার আবাসনে যুবককের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, স্ত্রী ও শ‍্যালকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের, তদন্তে পুলিশ

বাড়ির ভিতরে ঢুকে ডাইনিং রুমে সিলিং ফ্যানে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় সানি সিংহকে দেখতে পান তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। সানিকে উদ্ধার করে বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১১

দক্ষিণ কলকাতার সরশুনা থানা এলাকার আবাসনে উদ্ধার হল ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম সানি সিংহ (৩৪)। প্রথমে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও পরে নিহতের বোন তাঁর স্ত্রী ও শ্যালকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের খবর, মঙ্গলবার ভোরবেলা ৬টা ৫৫ মিনিট নাগাদ ১০০ ডায়ালে খবর আসে, সরশুনা রাম রোডের বাড়িতে এক ব্যক্তি ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় সরশুনা থানার পুলিশ। পুলিশকর্মীরা সেখানে গিয়ে দেখেন, অচেতন অবস্থায় সানি সিংহ মাটিতে পড়ে আছেন। তাঁর স্ত্রী পুনিতা সিংহ তাঁকে কোলে নিয়ে বসে আছেন।

প্রতিবেশী কল্লোল হিরকের দাবি, ঘটনার কিছু ক্ষণ আগে পুনিতা সিংহ তাঁকে জানান যে তাঁদের বেডরুম বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তিনি তাঁর নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে ঘরের ভিতরেই আটকে পড়েছেন। সাহায্যের অনুরোধে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে বারান্দার মাধ্যমে তাঁকে নীচে নামতে সাহায্য করেন। পরে পুনিতার কাছেই থাকা চাবি দিয়ে বাড়ির মূল গেট খোলা হয়। জানা গিয়েছে, পুলিশ যখন এসে কাঠের দরজাটি তখন খোলার চেষ্টা করলে তা খোলা অবস্থাতেই ছিল।

বাড়ির ভিতরে ঢুকে ডাইনিং রুমে সিলিং ফ্যানে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় সানি সিংহকে দেখতে পান তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। সানিকে উদ্ধার করে বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কাটাপুকুর পুলিশ মর্গে দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। ঝুলে পড়ার কারণেই সানির মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহ পরীক্ষা করে ঘাড়ে অসংলগ্ন লিগেচার মার্ক ছাড়া বাহ্যিক আঘাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেই পুলিশ সূত্রের খবর।

ঘটনায় পারিবারিক অশান্তির বিষয়টি সামনে আসতেই নতুন মোড় নেয় তদন্ত। পুলিশ জানিয়েছে, সানি সিংহ ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। তাঁরা গত ছ’মাস ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পুনিতা সিংহ স্বামীর বিরুদ্ধে সরশুনা থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। এমনকী, ঘটনার আগের রাতে, ১৯ জানুয়ারি দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। অভিযোগ, সেই সময় সানি সিংহ তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে বাড়ি থেকে বার করে দেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁরা পুনরায় বাড়িতে প্রবেশ করেন। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সানি সিংহ নিয়মিত মদ্যপানে অভ্যস্ত ছিলেন।

ঘটনার পরে নিহতের বোন সঙ্গীতা শাহ সরশুনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সানির স্ত্রী পুনিতা সিংহ ও তাঁর ভাই রাকেশ পাসোওয়ানের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) এবং ৩(৫) ধারায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা না কি পরিকল্পিত খুন, তা তদন্ত করে দেখছে সরশুনা থানার পুলিশ।


Share