BDO Prasanta Burman

খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের আগাম জামিন মঞ্জুর করল না শীর্ষ আদালত, আত্মসমর্পণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

দত্তাবাদে স্বর্ণব‍্যবসায়ী স্বপন কামিল‍্যা খুনের ঘটনায় রাজগঞ্জের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক প্রশান্ত বর্মনের গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। গত বছরে ডিসেম্বরে কলকাতা হাই কোর্টে তা খারিজ হয়ে গিয়েছে। বিচারপতি তির্থঙ্কর ঘোষের নির্দেশ দিয়েছিল, তাঁকে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

বিডিও প্রশান্ত বর্মন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৫

নিউ টাউনের স্বর্ণব‍্যবসায়ী স্বপন কামিল‍্যা খুনের মূল অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিওকে আগাম জামিনের দিল না সুপ্রিম কোর্ট। তার আগাম জামিনের মামলা খারিজ হয়ে গিয়েছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।

খুনের মামলায় গ্রেফতারি এড়াতে নিম্ন আদালত আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। গত ২২ কলকাতা হাই কোর্ট নিম্ন আদালতে নির্দেশ খারিজ করে দেয়। বিচারপতি তির্থঙ্কর ঘোষ অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিনের আর্জি জানান অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন। সোমবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণইয়ের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, তাঁর আগাম জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হবে না। তাঁকে আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে নিম্ন আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তার পরে অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মন জামিনের আবেদন করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্ট এ-ও জানিয়েছে, পুলিশ অভিযুক্তের জামিনের বিরোধিতা করতে পারবে। তারা সেখানেই হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারবে।

গত ১৯ অক্টোবর নিউ টাউনের যাত্রাগাছির খালের ধার থেকে স্বর্ণব‍্যবসায়ী স্বপন কামিল‍্যার দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় এক তৃণমূল নেতা-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে এফআইআরে নাম রয়েছে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। কিন্তু তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেফতারির আগেই বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানান। প্রশান্তের আগাম জামিনের আর্জি মঞ্জুরও করে দেয় আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ।

গত ২২ ডিসেম্বর খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনকে আগাম জামিন দেওয়ায় বারাসত আদালতকে হাই কোর্টের প্রশ্ন মুখে পড়তে হয়েছে। এমন ঘটনায় অভিযুক্তকে কীসের ভিত্তিতে আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল আদালত, তা নিয়ে বিচারপতি তির্থঙ্কর ঘোষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিচারপতি ঘোষের পর্যবেক্ষণ, খুন বা ধর্ষণের মতো ঘটনায় অভিযুক্তের জামিন বা আগাম জামিন মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালত যে বিষয়গুলির ওপর নজর দেওয়া দরকার, তা কোনওটাই করেনি! গুরুত্বপূর্ণ তথ‍্যপ্রমাণকে অস্বীকার করে অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করেছে বারাসত আদালত।

বিচারপতি তির্থঙ্কর ঘোষ বলেছিলেন, “অভিযুক্ত একজন ডাব্লুবিসিএস আধিকারিক বলেই তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে।” বিচারপতির প্রশ্ন, এই খুনের ঘটনায় বাকি অভিযুক্তেরা জেলে রয়েছে। কিন্তু মূল অভিযুক্ত জামিনে রয়েছে? এমন কি করে সম্ভব? এর পরেই বিচারপতি ঘোষ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মূল অভিযুক্ত বাইরে থাকলে ন‍্যায়বিচারে প্রভাব পড়বে।

প্রশান্তের আইনজীবীর তরফে সাত দিনের সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই দিন হাই কোর্ট তা খারিজ করে দেয়। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি তির্থঙ্কর ঘোষ। সেই নির্দেশকে চ‍্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম যায় খুনের অভিযোগে খুনের অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। সোমবার তাঁর সেই নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।


Share