Golpark Turmoil

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সারা রাত তল্লাশি অভিযান পুলিশের, গোলপার্কের অশান্তির ঘটনায় ১০ দুষ্কৃতী গ্রেফতার

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বয়স ১৮ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে। ধৃতরা হলেন অর্জুন মল্লিক, এস কে বাচ্চু, বব্বি হেলা, মুকেশ পাসওয়ান, সুজন হালদার, গোপাল সরকার, অজয় হালদার, সন্দীপ নস্কর, রাজ হালদার, নবীন দাস।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৯

কলকাতার গোলপার্কে গন্ডগোলের ঘটনায় পুলিশ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। রবিবার রাতে রবীন্দ্র সরোবর থানার অন্তর্গত কাঁকুলিয়া রোডের পঞ্চাননতলা এলাকায় দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনায় গুলি চলা ও বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের গাড়ি-সমেত একাধিক বাইক ও বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বয়স ১৮ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে। ধৃতরা হলেন অর্জুন মল্লিক, এস কে বাচ্চু, বব্বি হেলা, মুকেশ পাসওয়ান, সুজন হালদার, গোপাল সরকার, অজয় হালদার, সন্দীপ নস্কর, রাজ হালদার, নবীন দাস। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকার বাসিন্দা, বাকিরা কসবা থানা এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ বাহিনী দ্রুত এলাকায় পৌঁছয়। কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ভোলানাথ পাণ্ডেও ঘটনাস্থলে যান। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ ১০ জনকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা আটটা নাগাদ একটি ক্লাবের পিকনিককে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা থেকে অশান্তির সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, ১০০ থেকে ১৫০ জন দুষ্কৃতী মুখে কাপড় বেঁধে এলাকায় চড়াও হয়। গুলি চালানো, বোমাবাজি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গুলির খোল ও বোমার সুতলি উদ্ধার করেছে।

এই ঘটনায় অন্তত দু’জন জখম হয়েছেন। জানা গিয়েছে, গণেশ দাস নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সনৎ সিংহ নামে অপর এক জনের মাথায় আঘাত লাগে। তাঁদের দু'জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর দলবল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। যদিও ধৃতেরা সকলেই ওই দলের সদস্য কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের দাবি, গত বছর গণেশপুজোর সময়ও এলাকায় তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছিল।

ঘটনার পর স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে যান। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দাদের একাংশ। কাউন্সিলরের দাবি, “পিকনিক নিয়ে গোলমাল হয়েছে। এর আগেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এ বারও যেই অপরাধ করে থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।”

ঘটনায় কলকাতা পুলিশের কমিশনার সুপ্রতিম সরকার বলেন, “গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে কাউকে ছাড়া হবে না। সারা রাত তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”


Share