Special Intensive Rivision

ইআরও-এইআরওদের বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়ে টানাপড়েন, রাজ্যকে ৭২ ঘন্টা সময় বেঁধে দিল নির্বাচন কমিশন

ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মে কঠোর নির্বাচন কমিশন। চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর অগ্রগতি নিয়ে ৭২ ঘণ্টার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে মুখ্যসচিবের কাছে।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৭

সারা রাজ্য জুড়ে চলছে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধনের কাজ। তারই মাঝে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। একই রকম ঘটনা ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বে। এই দু'জায়গার ইআরও ও এইআরও পদের দায়িত্বে থাকা আধিকারীকদের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় বেআইনিভাবে নাম তোলার অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন অভিযুক্ত দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার , তথাগত মণ্ডল এবং সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে এই চার জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিবের থেকে তা নিয়ে রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন। কমিশন আরোও নির্দেশ দিয়েছে, কোন দফতর কাজ করেনি সেই রিপোর্টও জমা দিতে হবে। সেই জন্য ২৪ জানুয়ারি বিকেল পাঁচটার টাইমলাইনও বেঁধে দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফ থেকে।

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের সালে ৫ অগস্ট ওই চার জন অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার কথাও বলা হয়েছিল। এর পরের দিন ঝাড়গ্রামের একটি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ভোট যেহেতু দোরগোড়ায়, তাই সেই সময় থেকেই কমিশন অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছে। এর পরে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করা নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়।

ভোটার তালিকায় বেআইনিভাবে নাম তোলার অভিযোগে ইআরও ও এইআরও আধিকারিককে সাসপেন্ড করে নবান্ন। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে কমিশনের এফআইআর করার নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি বলে অভিযোগ। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে এই চার জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। বরং রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের স্পেশাল কমিশনার এফআইআর-এর নির্দেশ প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে সিইও দফতরে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে ‘লঘু দোষে গুরু দণ্ড’-র প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়। জানা গিয়েছে, ওই চিঠিটি রাজ্যের সিইও দফতর দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়েছিল। কিন্তু তার পরেও নিজের অবস্থানে অনঢ় রইল কমিশন।


Share