Madhyamik Exam

মাধ‍্যমিক পরীক্ষার স্বার্থে নির্বাচনী কাজের শিক্ষকদের অব‍্যাহতি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে, রামানুজের দাবি উড়িয়ে দিয়ে দাবি কমিশনের

এ হেন পরিস্থিতিতে রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, পর্ষদের পক্ষ থেকে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার স্বার্থে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে এই দাবি ঘিরে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারণ একই দিনে সিইও মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানান, পর্ষদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত তিনি এ ধরনের কোনও চিঠি হাতে পাননি।

মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় ও সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫১

চলতি বছরের আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে। এই পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষামহলে প্রস্তুতি তুঙ্গে। আর রাজ্য জুড়ে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কাজ চলছে। সেই কাজেই বিএলও হিসেবে নিযুক্ত রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এই আবহেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সামনে বড় প্রশ্ন, নির্বাচনী কাজে যুক্ত কতজন শিক্ষক আদৌ পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না! সেই বিষয়ের কোনো স্পষ্ট ধারনা পর্ষদের কাছে নেই। এই কারণেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় শিক্ষকদের ছাড় চেয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।

এ নিয়ে শুক্রবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানান, মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় সাধারণত স্কুল ইনস্পেক্টর ও জেলা স্কুল পরিদর্শকরাই পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান। পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি ও সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য প্রায় ৫০ হাজার ইনভিজিলেটর বা পরিদর্শকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই মুহূর্তে কত জন স্কুল জেলা পরিদর্শক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিএলও বা এইআরও হিসেবে নির্বাচনী কাজে যুক্ত রয়েছেন, তার কোনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পর্ষদের কাছে নেই।

এ হেন পরিস্থিতিতে রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, পর্ষদের পক্ষ থেকে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার স্বার্থে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে এই দাবি ঘিরে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারণ একই দিনে সিইও মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানান, পর্ষদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত তিনি এ ধরনের কোনও চিঠি হাতে পাননি।

উল্লেখ্য, চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য রাজ্য জুড়ে মোট দু'হাজার ৬৮২টি পরীক্ষাকেন্দ্র বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪৫টি মূল পরীক্ষাকেন্দ্র এবং এক হাজার ৭৩৭টি উপ-কেন্দ্র রয়েছে। এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ন'লক্ষ ৭১ হাজার ৩৪০। তাদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা চার লক্ষ ২৬ হাজার ৭৩৩ জন, ছাত্রীর সংখ্যা পাঁচ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬০৬ জন এবং একজন রূপান্তরকামী পরীক্ষার্থী রয়েছে। পর্ষদ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ।

প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও সকাল ১১ টা থেকে দুপুর দু'টো পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রশ্নপত্র বিলি শুরু হবে ১৫ মিনিট আগে থেকে। নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে শিক্ষা মহলের একাংশের দাবি, পরীক্ষার সূচি নির্ধারিত থাকলেও, শিক্ষক ও পরিদর্শকের অভাব তৈরি হলে পরীক্ষার পরিচালনায় সমস্যা হতে পারে। ফলে নির্বাচনী দায়িত্ব ও পরীক্ষার ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয়ই এখন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


Share