Stone-Pelting Curbed

নাবালকদের পাথর ছোড়া ঠেকাতে প্রযুক্তি ও সচেতনতার যুগলবন্দি, খড়গপুর ডিভিশনে বড় সাফল্যের দাবি আরপিএফের

আরপিএফ-এর দাবি, এই দুই পদক্ষেপের জেরে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপণের ঘটনা অনেকটাই কমানো গিয়েছে। গত একবছরে রেলের খড়গপুর ডিভিশনের বিভিন্ন শাখায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রায়ই ঘটেছে। এতে যাত্রীদের বিশেষ কোনও ক্ষতি না হলেও ট্রেনের ক্ষতি হয়েছে। আর অনেকক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, পাথর নিক্ষেপকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই নাবালক ও কিশোর।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়গপুর
  • শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:২৮

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুঁড়ে মারার অভিযোগ সামনে আসছে। এ হেন পরিস্থিতিতে এরকম ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রেল কর্তৃপক্ষ। একদিকে যেমন পাথর নিপেক্ষকারীদের চিহ্নিত করতে প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে তেমনি অপরদিকে রেলের ‘অপারেশন জন জাগুরকতা’ কর্মসূচিতে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে।

আরপিএফ-এর দাবি, এই দুই পদক্ষেপের জেরে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপণের ঘটনা অনেকটাই কমানো গিয়েছে। গত একবছরে রেলের খড়গপুর ডিভিশনের বিভিন্ন শাখায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রায়ই ঘটেছে। এতে যাত্রীদের বিশেষ কোনও ক্ষতি না হলেও ট্রেনের ক্ষতি হয়েছে। আর অনেকক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, পাথর নিক্ষেপকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই নাবালক ও কিশোর। যাদের ধরা হলেও আদালতে তাদের অভিভাবকদের পেশ করা হয়। আর আদালতে সেইসব অভিভাবকদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা তাঁদের সন্তানরা আর ঘটাবে না। যদি ঘটায় তাহলে তারজন্য অভিভাবকরা নিজেরা দায়ী থাকবেন।

রেলের খড়গপুর ডিভিশনের আরপিএফ সূত্রের খবর, ২০২৫ সালে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় মোট ২৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে মোট ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নাবালক। আরপিএফের খড়গপুর ডিভিশনের সিনিয়র সিকিউরিটি কমিশনার প্রকাশ কুমার পান্ডা বললেন, “বাচ্চারা সাধারণভাবে না বুঝে খেলার ছলে এই ধরনের ঘটনা ঘটায়। কিন্তু পরে ঘটনার তদন্ত করে আমরা তাদের চিহ্নিত করতে পারি। তাদের তো ধরা হয়ই। তার সঙ্গে অভিভাবকদের আদালতে হাজির করিয়ে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর সন্তানরা ঘটাবে না এইরকম একটি মুচলেকা লিখিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।”

এই ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা যে জায়গাগুলোতে ঘটে সেইসব গ্রামে গিয়েই চিহ্নিত হওয়া পাথর নিক্ষেপকারীদের বাড়িতে পৌঁছে সচেতন করেন ‘অপারেশন জন জাগুরকতা’ কর্মসূচিতে। তবে এই মুহুর্তে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য আরপিএফের খড়গপুর ডিভিশন সোলার ক্যামেরা লাগানো শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, বিগত দু'মাসে পুরো খড়গপুর ডিভিশনের বিভিন্ন শাখায় এখনও পর্যন্ত আরপিএফের খড়গপুর ডিভিশনের তরফ থেকে ১০টি সোলার ক্যামেরা লাগিয়েছে। মূলত যেসমস্ত এলাকায় এই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, সেইসব এলাকাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সোলার ক্যামেরা বসানো হয়েছে। যদি এই উদ্যোগে সাফল্য পাওয়া যায় তাহলে ভবিষ্যতে আরোও এই ধরনের ক্যামেরা বসানো হবে। জানা গিয়েছে, এই ১০টি সোলার ক্যামেরা বসানো হয়েছে খড়গপুর-হাওড়া রেলশাখার টিকিয়াপাড়া, উলুবেড়িয়া-বাগনান স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায়। পাশাপাশি, ওড়িশার বালেশ্বর স্টেশনের আগেও এই ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। আরপিএফের খড়গপুর ডিভিশনের সিনিয়র সিকিউরিটি কমিশনার প্রকাশ কুমার পান্ডা বলেন, “আপাতত আমরা ১০টি সোলার ক্যামেরা লাগিয়েছি। তাতে সাফল্য অনেকটাই পাওয়া গিয়েছে। এইসব এলাকায় এখন চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা এখন এই পদক্ষেপের সাফল্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। সাফল্য আরও পেলে ভবিষ্যতে আরও কিছু এলাকায় এই ক্যামেরা লাগানো হবে।”

তিনি আরোও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে এই ক্যামেরার মাধ্যমে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের দু’টি ঘটনা চিহ্নিত করা গিয়েছে। তবে এরকম চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ধরা পড়লে রেলের আইনের ১৫৩ ধারায় পাঁচ বছরের জেল হেফাজতও হতে পারে।

উল্লেখ্য, শুধুমাত্র বন্দেভারত এক্সপ্রেসের বাইরের দিকে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার কারণে পাথর নিক্ষেপকারীদের চিহ্নিত করা সহজ হয়। কিন্তু অন্যান্য ট্রেনে এই সুবিধা না থাকার কারণে পাথর নিক্ষেপকারীদের তদন্তে নেমে আরপিএফদের হয়রানি হতে হয়। তবে বর্তমানে এই সোলার ক্যামেরা লাগানোর ফলে একদিকে যেমন চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা কিছুটা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে, তেমনি কেউ ঘটনা ঘটালে তাকে চিহ্নিত করতে সুবিধা হচ্ছে।


Share