Wild Life

গিরে বনাঞ্চলে বেবেসিয়া সংক্রমণের আশঙ্কায় মৃত দুই সিংহশাবক, নজরদারিতে আরও ১০ সিংহ

মঙ্গলবার তিনি জানান, সংক্রমণের সম্ভাব্য বিস্তার রুখতে বন দফতর ও পশুচিকিৎসকদের বিশেষ দল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। তবে এটি কোনো ব্যাপক রোগ বা মহামারীর লক্ষণ নয় এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, গুজরত
  • শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১০:২২

গুজরতের গির বনাঞ্চলে বেবেসিয়া পরজীবীর সম্ভাব্য সংক্রমণে দুই সিংহশাবকের মৃত্যু। এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বনাঞ্চলে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী অর্জুন মোধওয়াদিয়া। মঙ্গলবার তিনি জানান, সংক্রমণের সম্ভাব্য বিস্তার রুখতে বন দফতর ও পশুচিকিৎসকদের বিশেষ দল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। তবে এটি কোনো ব্যাপক রোগ বা মহামারীর লক্ষণ নয় এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গির অঞ্চলে পাঁচটি সিংহের মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর বনমন্ত্রীর তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেন, “খবরে পাঁচটি সিংহের মৃত্যু বেবেসিয়া ভাইরাসে হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, আমাদের নজরে এসেছে মাত্র দুটি সিংহশাবকের মৃত্যুর ঘটনা, যাদের ক্ষেত্রে বেবেসিয়া সংক্রমণের সন্দেহ রয়েছে। বাকি মৃত্যুগুলি নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ অথবা অন্য কারণে হয়েছে।”

মন্ত্রী জানান, বেবেসিয়া একটি পরজীবী সংক্রমণ, যা মূলত এঁটেল পোকার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত প্রাণীদের মধ্যে দুর্বলতা, কাশি ও নাক দিয়ে সর্দি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে তা মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বনকর্মী ও পশুচিকিৎসকদের দল সক্রিয়ভাবে সম্ভাব্য আক্রান্ত সিংহদের শনাক্ত করছে এবং তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। বন দফতরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দুটি শাবকের মৃত্যুর পর ১০টি সিংহকে উদ্ধার করে একটি বিশেষ উদ্ধারকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। কারণ ওই সিংহগুলির মধ্যে দুর্বলতার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল।

বনমন্ত্রী বলেন, “কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। গুজরাটের সিংহ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। আমাদের সিংহের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং এই সন্দেহজনক বেবেসিয়া সংক্রমণের কারণে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।”

উল্লেখ্য, সর্বশেষ সিংহ গণনা অনুযায়ী, বর্তমানে গুজরতে মোট ৮৯১টি এশীয় সিংহ রয়েছে।


Share