Suvendu Adhikari

বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি প্রক্রিয়া, কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকের পরেই জানালেন মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পকে অন্নপূর্ণা যোজনা এবং স্বাস্থ্যসাথীকে আয়ুষ্মান ভারতে রূপান্তরের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১০:১২

রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি প্রক্রিয়া বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে। সেদিনই প্রকাশ করা হবে আবেদনপত্র। মঙ্গলবার কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও ফর্ম পূরণের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি মা ক্যান্টিনে সপ্তাহে দু’দিন পাঁচ টাকায় মাছ-ভাত দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

মঙ্গলবার কল্যাণীর এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পকে অন্নপূর্ণা যোজনা এবং স্বাস্থ্যসাথীকে আয়ুষ্মান ভারতে রূপান্তরের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে, যা বুধবার নবান্নে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বুধবার ইমেলে নবান্ন থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী, মুখ্যসচিব, অর্থসচিব এবং অন্যান্য আধিকারিকের উপস্থিতিতে অগ্নিমিত্রা পাল এবং আমি একটি ফর্ম প্রকাশ করব। সেই ফর্ম অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে পূরণ করতে হবে।’’ তিনি আরও জানান, দ্রুত নথিভুক্তিকরণ হলে দ্রুত সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা পাঠানো শুরু হতে পারে। তবে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলাকালীন যাতে কেউ সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যত দিন না অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা চালু হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত উপভোক্তারা নিয়মমাফিক লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকাও পাবেন।

শুভেন্দু জানান, বুধবার থেকেই ফর্মের প্রতিলিপি পাওয়া যাবে। তাঁর কথায়, 'অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও ফর্ম থাকবে।' শুধু সাধারণ মানুষের উপর দায়িত্ব না ছেড়ে দিয়ে বিধায়কদেরও উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিডিওদের নেতৃত্বে সরকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবে বলেও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে নাগরিকত্ব নিয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘মাথায় রাখতে হবে, ভারতীয়েরাই কেবলমাত্র এই সুযোগ পাবেন। যাঁরা এ দেশের নাগরিক নন, তাঁরা সুযোগ পাবেন না। ভারত সরকারের টাকা বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেওয়ার জন্য নয়। এটা খুব স্পষ্ট বিষয়।’’

মা ক্যান্টিন নিয়েও নতুন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৪০০টি মা ক্যান্টিন রয়েছে। সেখানে সপ্তাহে দু’দিন পাঁচ টাকায় মাছ-ভাত দেওয়া হবে। বাকি পাঁচ দিন পাঁচ টাকাতেই ডিম-ভাত মিলবে।

এ ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে ‘দিদিকে বলো’ পরিষেবার নাম বদলে হচ্ছে ‘আপনার সরকারকে বলুন’। বদলানো হচ্ছে পুরনো টোল-ফ্রি নম্বরও। পরিষেবা চালুর দিন বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি জানান, নতুন নামটি প্রস্তাব করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।

সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সিদ্ধান্তও কার্যকর হতে চলেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘সরকারি বাসে আপাতত সব মহিলা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। এটা আগেই মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। এ বার তা কার্যকর হচ্ছে। পরবর্তী কালে কার্ড করব।’’

পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে কেন্দ্রের ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচিও রাজ্যে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বন ও পরিবেশ দফতর বিধায়কদের মাধ্যমে গাছ বিতরণ করবে। পাশাপাশি ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যে জনকল্যাণ শিবির আয়োজন করা হবে, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে জানানো হবে।

২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবসও পালন করবে রাজ্য সরকার। এই দায়িত্বে থাকবে আয়ুষ দফতর ও ক্রীড়া দফতর। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘আজ একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মন্ত্রিসভায় এটা অনুমোদনের জন্য আমি রাখব। আয়ুষ দফতরকে আমরা স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করছি। আয়ুষ দফতরের ক্ষেত্রে আমরা এক জন যোগ্য অফিসারকে দায়িত্ব দেব, গোটা দেশে যে সুযোগ রয়েছে, তা এখানেও কাজে লাগানো হবে।’’


Share