Middle East Conflict

হরমুজ প্রণালীতে হামলার জেরে নিখোঁজ ভারতীয় নাবিক, ওমানে তল্লাশি অভিযান জোরদার, ইরান-আমেরিকার পাল্টা হামলায় যুদ্ধের আশঙ্কা আরও প্রবল

বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা বিবৃতিতে হামলার কড়া সমালোচনার পাশাপাশি হরমুজ সংলগ্ন অঞ্চলে অবিলম্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ ০২:১৫

হরমুজ প্রণালীতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজের উপর রবিবার ভোরে হামলার ঘটনায় ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হলেও এখনও এক জন নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা বিবৃতিতে হামলার কড়া সমালোচনার পাশাপাশি হরমুজ সংলগ্ন অঞ্চলে অবিলম্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।

দিল্লি বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ জিএফএস গ্যালাক্সিতে যে হামলা হয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা করছি। জাহাজটিতে ১১ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা গিয়েছে। এক জনের খোঁজ মেলেনি। ওমানে অবস্থিত আমাদের দূতাবাস পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে। তল্লাশি অভিযান এবং উদ্ধারকাজ চলছে। তাতে ওমান কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করছেন দূতাবাসের আধিকারিকেরা। সহায়তার জন্য ওমান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।’’

উল্লেখ্য, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে রবিবার ভোর থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি। আমেরিকার অভিযোগ, সাইপ্রাসের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান, যার জেরে জাহাজটির ইঞ্জিনরুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে সেন্টকম ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্য দিকে, ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণার পর সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ চলাকালীন অনুমতি ছাড়া একটি জাহাজ ওই জলপথ অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিল, এবং সেই কারণেই সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও জাহাজের যাতায়াত বরদাস্ত করা হবে না। আমেরিকার হামলার পাল্টা জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত একাধিক আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোরও দাবি করেছে ইরান। এর জেরে পুরো অঞ্চলে ফের যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং একাধিক দেশে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানের উপর হামলা চালায়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে তিন সপ্তাহ আগে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেখানে দু’মাসের সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা জানানো হয়। তবে আমেরিকার অভিযোগ, সেই চুক্তির শর্ত ভেঙে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী জাহাজে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর জেরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘর্ষবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করলেও কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেননি। হরমুজ় প্রণালী নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার ওমান সফর করেন। কিন্তু উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার বদলে রবিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।


Share