Plane Crash

বাড়ির ছেলের প্রাণ বাঁচাতে ধার করে চাটার্ড বিমানে করে দিল্লি যাচ্ছিল পরিবার, ঝাড়খণ্ডে বিমান দুর্ঘটনায় সাত জনের মৃত্যু

বিমানে সঞ্জয়ের সফরসঙ্গী ছিলেন তাঁর স্ত্রী অর্চনা দেবী এবং তাঁর আত্মীয় ধ্রুব কুমার। বিমানটি চালাচ্ছিলেন ক্যাপ্টেন বিবেকবিকাশ ভগত, সহকারী পাইলট হিসাবে ছিলেন সবরাজদীপ সিংহ। বিমানে ছিলেন বিকাশকুমার গুপ্ত নামে এক চিকিৎসক, সচিনকুমার মিশ্র নামে এক চিকিৎসাকর্মী। ভেঙে পড়া বিমান থেকে উদ্ধার হওয়া সাতটি দেহই উদ্ধার করা হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডে বিমান দুর্ঘটনায় সাত জনের মৃত্যু।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৪:৫৪

বাড়ির ছেলের প্রাণ বাঁচাতে ধার করেছিলেন লক্ষাধিক টাকা। সেই টাকায় ভাড়া করেছিলেন এয়ার অ‍্যাম্বুলেন্স। সেটা করেই রাঁচি বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন পরিবার। কিন্তু মাঝ-আকাশেই ঘটে গেল বিপত্তি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ল বিমান। চাটার্ড বিমানে থাকা সাত জনেরই মৃত্যু হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের লাহেতার জেলার চান্দোয়ার বাসিন্দা সঞ্জয় কুমার অগ্নিদগ্ধ হন। তাঁর বাড়ির কাছের একটি হোটেল রয়েছে। সেখানে আগুন লেগে যায়। সেই সময় ভেতরেই ছিলেন সঞ্জয়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ভর্তি হন হাসপাতালে। আগুনে ৬৩ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ঝাড়খন্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুর‍েও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরিবারের সদস্যেরা সুচিকিৎসার জন্য দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সঞ্জয়ের ভাইয়ের কথায়, পরিবার অন‍্যান‍্য সদস্য এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকে চেয়েচিন্তে আট লক্ষ টাকা যোগাড় করে। তার পরে চাটার্ড বিমান ভাড়া করে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিট নাগাদ সেই বিমানে চেপে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে দিল্লি রওনা দেন। ওড়ার পরে কলকাতা এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিট নাগাদ কলকাতা এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার কিছু ক্ষণের মধ্যে ঝাড়খন্ডের ছাতরায় বিমানটি ভেঙে পড়ে।

বিমানে সঞ্জয়ের সফরসঙ্গী ছিলেন তাঁর স্ত্রী অর্চনা দেবী এবং তাঁর আত্মীয় ধ্রুব কুমার। বিমানটি চালাচ্ছিলেন ক্যাপ্টেন বিবেকবিকাশ ভগত, সহকারী পাইলট হিসাবে ছিলেন সবরাজদীপ সিংহ। বিমানে ছিলেন বিকাশকুমার গুপ্ত নামে এক চিকিৎসক, সচিনকুমার মিশ্র নামে এক চিকিৎসাকর্মী। ভেঙে পড়া বিমান থেকে উদ্ধার হওয়া সাতটি দেহই উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিমানটি দিল্লিভিত্তিক রেডফোর্ড এয়ারওয়েজ পরিচালিত বিচক্রাফ্ট কিং এয়ার (বিই৯এল) বিমান। রাত ১০টায় দিল্লি পৌঁছোনোর কথা ছিল। গতকাল অসামরিক বিমান মন্ত্রকের অধীনস্থ ডিজিসিএ জানিয়েছে, কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পর প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে বারাণসীর কাছে রাডার এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটির শেষ অবস্থান পালামুর কাছে ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে বিমানটি ঝাড়খন্ডের ছাত্রার সিমারিয়ার কাসিয়াতু জঙ্গলে ভেঙে পড়ে।


Share