Abhishek Banarjee

‘সেবাশ্রয়’-এ চিকিৎসার পর পা হারানোর অভিযোগে এফআইআরের পর মালতী বিশ্বাসকে স্বাস্থ্য ভবনে তলব স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস

সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে মালতী বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারকে সমস্ত চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র-সহ স্বাস্থ্য ভবনে তলব করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (ডান দিকে)।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ ০৭:১৮

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে চিকিৎসার পর পা হারানোর অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছিলেন মালতী বিশ্বাস। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে মালতী বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারকে সমস্ত চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র-সহ স্বাস্থ্য ভবনে তলব করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য ভবনে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তাঁর লোকসভা কেন্দ্রে ‘সেবাশ্রয়’ নামে একটি স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে চিকিৎসা করাতেই মালতী নামে এক মহিলার ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে ওই মহিলার পঙ্গু হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্তে নেমেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।

এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস বলেন, ‘‘এই অমানবিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মালতীকে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য ভবনে তলব করা হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বয়ং ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি ব্যক্তিগত ভাবে মালতীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সমস্ত বিবরণ জেনেছেন।’’ তাঁর দাবি, ফোনে কথা বলার পরই স্বাস্থ্যমন্ত্রী মালতীকে সোমবার স্বাস্থ্য ভবনে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। তাঁর অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার জেরে মালতী ডান পা হারিয়েছেন। যে চিকিৎসা-গাফিলতির কারণে একজন সুস্থ মানুষকে আজীবন পঙ্গুত্ব নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে, সেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তে রাজ্য সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও দাবি তাঁর। অভিজিতের কথায়, সরকার নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা করার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্য দিকে, দক্ষিণ কলকাতা জেলা (কালীঘাট) তৃণমূলের সভাপতি আইনজীবী বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পুরোপুরি না-জেনে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়। আমরা যা কিছু জেনেছি, তা সংবাদমাধ্যম থেকে। তবে ওই মহিলা শুধু সেবাশ্রয়ে চিকিৎসা করিয়েই পঙ্গু হয়েছেন কি না, এই বিষয়টি আগে জানা দরকার। তা হলেই এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট মন্তব্য করা যাবে।’’

ইতিমধ্যেই ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচিকে ঘিরে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র ও তার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনগর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকায় যাননি। এর মধ্যেই তাঁর লোকসভা কেন্দ্রকে ঘিরে একাধিক ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি নিয়েও এর আগে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের হওয়া একটি অভিযোগে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচিতে আর্থিক দুর্নীতি, সরকারি প্রশাসনের অপব্যবহার এবং বিপুল পরিমাণ ওষুধ নষ্ট করার অভিযোগ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।

যদিও কালীঘাট তৃণমূলের নেতাদের দাবি, রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক পুলিশি পদক্ষেপ ও বিভিন্ন অভিযোগ আনা হচ্ছে। তাঁদের মতে, বর্তমান ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলির জবাব অভিষেক আইনি পথেই দেবেন।


Share