Supreme Court

শিশুদেরও ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক অধিকার রয়েছে, বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

তবে অনলাইনে শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে অপরাধমূলক ছবি ও ভিডিও দ্রুত শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৪৩

শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতা এবং তাদের সুরক্ষা—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুরক্ষার অজুহাতে শিশুদের ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা যায় না। এমনই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সের ভিত্তিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের আর্জি খারিজ করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, শিশুদের সুরক্ষা ও স্বাধীনতা পরস্পরের বিরোধী নয়। তবে অনলাইনে শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে অপরাধমূলক ছবি ও ভিডিয়ো দ্রুত শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, বয়সের ভিত্তিতে অতিরিক্ত কড়াকড়ি চাপানো হলে শিশুরা নিয়ন্ত্রণহীন ও আরও বিপজ্জনক ওয়েবসাইটের দিকে ঝুঁকতে পারে। শুধু তা-ই নয়, অনলাইনে কোনও হুমকি বা প্রলোভনের মুখে পড়লেও নিয়ম ভাঙার শাস্তির ভয়ে তারা বাবা-মা কিংবা অভিভাবকদের কাছে মুখ খুলতে দ্বিধা করতে পারে। তাই নিষেধাজ্ঞার বদলে শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা জরুরি বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত।

একই সঙ্গে অনলাইনে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিয়োর প্রচার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদ্যমান নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও সোশ্যাল মিডিয়ার রিডাইরেক্ট লিঙ্ক এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে এই ধরনের বেআইনি কন্টেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সমাজমাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলির ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিচারপতিদের বেঞ্চ।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে মূলত ব্যক্তিবিশেষের অভিযোগের ভিত্তিতেই এ ধরনের কন্টেন্ট সরানোর পদক্ষেপ করা হয়। কোনও একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে ছবি বা ভিডিও মুছে ফেলা হলেও অন্য প্ল্যাটফর্মে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হয় না। ফলে একই অপরাধমূলক কন্টেন্ট ইন্টারনেটের অন্যত্র থেকে যায় এবং ছড়াতে থাকে। এই সমস্যার মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা আর বরদাস্ত করা যায় না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে আদালত।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার ও সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলিকে জাতীয় স্তরে ‘পারসেপচুয়াল হ্যাশ’ এবং ইউআরএল-এর একটি অভিন্ন ডেটাবেস তৈরির জন্য নির্দেশিকা প্রণয়নের কথা বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একই অপরাধমূলক ছবি বা ভিডিয়ো শনাক্ত করে দ্রুত সরিয়ে ফেলা সম্ভব হবে। তবে কোনও একটি অভিযোগের ভিত্তিতে যাতে যাচাই ছাড়াই বৈধ কন্টেন্ট মুছে না যায়, তা নিশ্চিত করতে বহুস্তরীয় যাচাইকরণ এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। পাশাপাশি, এই ডেটাবেস শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অপরাধমূলক কন্টেন্ট শনাক্ত ও অপসারণের কাজেই ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোনও উদ্দেশ্যে কিংবা বৈধ কন্টেন্ট সরানোর জন্য এর ব্যবহার করা যাবে না।

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্তর থেকেই সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর উপরেও জোর দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অনলাইনে কী ধরনের বিপদ হতে পারে, কীভাবে প্রলোভন ও হুমকি চিনতে হবে এবং সমস্যায় পড়লে কোথায় সাহায্য চাইতে হবে—সেই বিষয়ে শিশুদের শিক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে আদালত। শিশুদের স্বাধীনতা বজায় রেখেই কীভাবে তাদের ডিজিটাল জগতে নিরাপদ রাখা যায়, সেই ভারসাম্য তৈরিই এখন মূল লক্ষ্য।


Share