Washington's Oil Reversal

রাশিয়ার তেল নিয়ে ইউ-টার্ন! চাপের মুখে এ বার ভারতকেই অনুরোধ আমেরিকার

এই মন্তব্যে তিনি আরও বলেন, অল্প কয়েক দিনের সংঘাতেই আমেরিকার অবস্থান বদলে গিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাদের দ্বিচারিতাকে সামনে এনেছে। তাঁর মতে, জ্বালানি বাজারের বাস্তবতা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তেলের দাম বাড়ায় শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার আয়ই আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আব্বাস আরাহহচি ও ডোলান্ড ট্রাম্প
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ০৭:০৬

একেই বলে নিজের কৌশলেই নিজে চাপে পড়া। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে অস্বস্তিতে পড়েছে ডোলান্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যে নীতি অনুসরণ করে আগে ভারত-সহ একাধিক দেশকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে চাপ দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই একই আমেরিকাকেই আবার নয়াদিল্লিকে রুশ তেল আমদানির অনুরোধ জানাতে হচ্ছে। এই অবস্থাকেই তীব্র কটাক্ষ করেছেন আব্বাস আরাঘচি।

তিনি এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে আমেরিকা, ভারত-সহ বহু দেশকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সংঘাতের পরে পরিস্থিতি বদলেছে। এখন হোয়াইট হাউস বিশ্বজুড়ে দেশগুলিকে, বিশেষ করে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অনুরোধ করছে।’

এই মন্তব্যে তিনি আরও বলেন, অল্প কয়েক দিনের সংঘাতেই আমেরিকার অবস্থান বদলে গিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাদের দ্বিচারিতাকে সামনে এনেছে। তাঁর মতে, জ্বালানি বাজারের বাস্তবতা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তেলের দাম বাড়ায় শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার আয়ই আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শুধু আমেরিকাই নয়, ইউরোপকেও নিশানা করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ‘ইউরোপ ভেবেছিল ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ যুদ্ধকে সমর্থন করলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকার সমর্থন মিলবে। খুবই দুঃখজনক।’ তবে ট্রাম্পে এই তেল নীতি পরিবর্তন নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশ আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মতে, রাশিয়ার ওপর চাপ কমিয়ে দিলে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে যায়। সেই পরিস্থিতিতে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল কিনতে ভারত-সহ কয়েকটি দেশকে ৩০ দিনের সাময়িক ছাড় দিয়েছে আমেরিকা।

আমেরিকার ট্রেজ়ারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘জ্বালানি সরবরাহ আরও বাড়াতে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট সাময়িক অনুমতি দিচ্ছে, যাতে দেশগুলি বর্তমানে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল কিনতে পারে। তেলের দামের এই সাময়িক বৃদ্ধি স্বল্পমেয়াদি বিঘ্ন ঘটালেও দীর্ঘমেয়াদে এটি আমাদের দেশ ও অর্থনীতির জন্য বড় সুবিধা বয়ে আনবে।’

ভারত, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে, ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল কেনার পথে এগিয়েছে। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থে প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী মূল্যে তেল কেনাই তাদের নীতি। গত এক দশকে ভারত তার তেল আমদানির উৎস ২৭ দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ দেশে নিয়ে গেছে, যাতে কোনও একক অঞ্চলের উপর নির্ভরতা না থাকে।

ভারতের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও মস্কো থেকে তেল আমদানি বন্ধ করা হয়নি, এবং চলতি মাসেও রাশিয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় একক তেল সরবরাহকারী দেশ। 


Share