Middle East Conflict

হরমুজ না খুললে সামরিক পদক্ষেপ? ট্রাম্পের কড়া বার্তার মধ্যেই ১৬ ভারতীয় জাহাজ আটকে, বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ

এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বেড়েছে ভারতের দিকেও। কারণ, এখনও ভারতের ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ সংলগ্ন অঞ্চলে আটকে রয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইরান
  • শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৮

হরমুজ প্রণালী ঘিরে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা আরও জটিল আকার নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, এই কৌশলগত জলপথ তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই থাকবে। অন্যদিকে ডোলান্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ খুলে না দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে এত চাপের মধ্যেও তেহরান আপসের কোনও ইঙ্গিত দেয়নি।

এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বেড়েছে ভারতের দিকেও। কারণ, এখনও ভারতের ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ সংলগ্ন অঞ্চলে আটকে রয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে ভারত ও পাকিস্তানের জন্য সীমিত চলাচলের সুযোগ দিয়েছে ইরান, তবুও নিরাপত্তা ঝুঁকি কাটেনি। ফলে জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলির মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। বাহারিনের প্রস্তাব ছিল, সদস্য দেশগুলিকে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার স্বার্থে প্রয়োজন হলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হোক। তবে এই প্রস্তাব ঘিরে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যেই মতভেদ স্পষ্ট হয়েছে বিশেষত সামরিক হস্তক্ষেপের প্রশ্নে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত একদিকে পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে নিজের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক পথেই সমাধানের পক্ষে রয়েছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে নয়া দিল্লি সাধারণত সংযত অবস্থান নেয়, ফলে নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “চাইলে এক রাতেই গোটা ইরান ধ্বংস করে দিতে পারে আমেরিকা। সেই রাত হতে পারে মঙ্গলবারই।” পাশাপাশি তাঁর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বার্তায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলার হুমকিও উঠে আসে। তাঁর বক্তব্য যদি তেহরান কোনও সমঝোতায় না আসে বা হরমুজ় পুনরায় পুরোপুরি না খোলে, তাহলে বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 


Share