Chandra Nath Rath

দশ রাউন্ড গুলি, ৫০ সেকেন্ডের অপারেশন, গুলিতে ঝাঁঝরা হয় আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ, কী ধরা পড়ল সিসি ক্যামেরায়

১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও দুষ্কৃতীরা অধরা রয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমে পুলিশ আশপাশের এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। চন্দ্রনাথকে যে পরিকল্পনা করেই হত্যা করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

চন্দ্রনাথ রথ নিহত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মধ্যমগ্রাম
  • শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৭:১৮

৫০ সেকেন্ডের নিখুঁত অপারেশন। তার মধ্যেই সব শেষ। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়কের গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিল দুষ্কৃতীরা। ইতিমধ্যেই দুটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। 

যে ফুটেজ সামনে এসেছে তাতে দেখা গিয়েছে, বুধবার রাত ১০টা নাগাদ রুপোলি রঙের একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে এসে দাঁড়ায়। ১০টা ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ড নাগাদ গাড়ি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ আসেন। ওই রুপোলি রঙের গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ি থামায়। এর পরেই শুরু হয় অপারেশন। ততক্ষণে পিছন বাকি দুষ্কৃতীরা বাইকে করে এসে যায়। সকলের সামনেই গুলি চালিয়ে খুন করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে। মাত্র ৫০ সেকেন্ডের মধ্যেই অপারেশন করা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়েছে। ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়ে।

মাঝরাস্তায় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি থামিয়ে গুলি করে হত‍্যা করা হয়েছে। রাত ১০টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বাড়ির ৫০ মিটারের মধ্যেই কাছেই নৃশংস ভাবে খুন হয়েছেন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক। চন্দ্রনাথ বাড়ির যাওয়ার সময়েই তাঁর উপর অতর্কিত হামলা হয়। গুলি চালানোর ছবিও সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। গাড়ির মধ্যেই প্রাণ হারান চন্দ্রনাথ রথ।

সিসি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, খুনের বেশ কিছু ক্ষণ আগে এলাকায় ঢোকে দুষ্কৃতীদের গাড়ি। চন্দ্র আসার অপেক্ষায় ছিল তারা। যে রাস্তা দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন, ওই রাস্তাতেই গাড়ি দিয়েই আটকানো হয়। দুটি মোটরবাইকে এসে গুলি চালিয়ে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। পুলিশ সূত্রের, তাদের মধ্যে একটি গাড়ি রাজারহাটের দিকে গিয়েছে। একটি গাড়ি উল্টো দিকে গিয়েছে। যে গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সেই গাড়ির নম্বর প্লেট শিলিগুড়ির হলেও তা ভুয়ো। এমনকী, গাড়ির চেসিস নম্বরও মিটিয়ে দেওয়া হয়। সেই গাড়িটির ফরেন্সিক হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, গাড়িটি আদতে কে কিনেছে তাকে তারা পেয়ে যাবেন। 

১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও দুষ্কৃতীরা অধরা রয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমে পুলিশ আশপাশের এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। চন্দ্রনাথকে যে পরিকল্পনা করেই হত্যা করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন পরবর্তী হিংসা রুখতে রাজ‍্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, এসটিএফ এবং সিআইডি কার্যত নিষ্ক্রিয়। তা নিয়ে বিজেপি শিবিরেরও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। চন্দ্রনাথ হত‍্যায় রাজ‍্য পুলিশের ডিজি (ইন্টেলিজেন্স) বিনীত গোয়েল এবং ডিজি (এসটিএফ) জাভেদ শামিমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুভেন্দু অধিকারীর মতো বিজেপি নেতার আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের এমন পরিণতি কী ভাবে হতে পারে, আদৌ কোনও গোয়েন্দা তথ‍্যে গাফিলতি রয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


Share