Assembly Election

বেহালায় বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে তান্ডবের ঘটনায় তৃণমূল প্রার্থী-সহ সাত জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ

তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় ছাড়া অভিজিৎ মিত্র ওরফে পিকু, বাপি নাগ, মন্টি সিংহ, পুরাণ থাপা, ঝুম্পা দাস, আকাশ থাপার নাম রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো, তোলাবাজি-সহ মোট ছ’টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

বেহালার ঘটনায় এফআইআর দায়ের করল পুলিশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০১

পর্ণশ্রীতে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে পোস্টার, ব্যানার ছেঁড়া-সহ তাণ্ডবকাণ্ডের ঘটনায় মামলা রুজু করল পুলিশ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়-সহ সাত জনের নামে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।ঘটনার পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুলিশ মামলা রুজু করা হয়েছে। দু’টি জামিন অযোগ্য ধারা-সহ ছ’টি ধারায় পর্ণশ্রী থানায় মামলা রুজু হয়েছে। 

গতকাল দুপুরে বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ-র নির্বাচনী কার্যালয়ে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায়। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই ছিঁড়ে ফেলা হয় বিজেপির পোস্টার, ব্যানার। প্রতিবাদে মিছিল করে পর্ণশ্রী থানায় যান বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল। এরই মধ্যে থানায় পৌঁছে যান বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। রত্না চট্টোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে 'চোর' স্লোগান দেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। পাল্টা স্লোগান তোলেন তৃণমূল কর্মীরাও। বিজেপি কর্মীদের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায় রত্না চট্টোপাধ্যায়কে।

প্রতিবাদে পর্ণশ্রী থানা পর্যন্ত মিছিল করেন বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁরা থানায় পৌঁছতেই ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। বাইরে বেশ খানিক্ষণ বিক্ষোভের পর থানায় ঢোকেন বিজেপি প্রার্থী। এরই মধ্যে বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় থানায় পৌঁছেন। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। স্লোগান শুনে বিজেপি কর্মীদের দিকে তেড়ে যান রত্না চট্টোপাধ্যায়। পাল্টা স্লোগান তোলে তৃণমূলও। থানার বাইরে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের কয়েক জন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান ইন্দ্রনীল খাঁ। তিনি বলেন, "পর্ণশ্রীতে আমাদের মুখ্য নির্বাচনী কার্যালয়ে তৃণমূলের যিনি প্রার্থী, তৃণমূলের যিনি সিটিং বিধায়িকা তিনি তাঁর গুণ্ডাবাহিনী নিয়ে সেখানে গিয়ে অন-ক্যামেরা পুলিশের সামনে লাথি মারছে, আমাদের ফ্লেক্স ছিঁড়ছে, আমাদের পতাকা ছিঁড়ছে। বিজেপি...আমরা সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নিতে এসে গেছি। সিসি টিভি ফুটেজ পরিষ্কার। সেখানে আমরা দিয়ে দিয়েছি। থানায় দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। যারা এরকম গুণ্ডাগিরি করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং গ্রেফতার করতে হবে। তাঁদের গ্রেফতার না করলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যাব। যতক্ষণ না তাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে থানায় বসে আছি।" 

তৃণমূলের পোস্টার, ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "ইন্দ্রনীল খাঁ এসে যদি বলেন আমি নেতৃত্ব দিয়েছি, আর কোনও ভিডিয়ো ফুটেজে যদি আমার ছবি দেখাতে পারেন তাহলে ইন্দ্রনীল খাঁ-কে বলে দেবেন যে আমি এখান থেকে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়াব না। ওরা দুপুর থেকে আমাদের হোর্ডিং ভাঙা শুরু করেছে। আমার হোর্ডিং ভেঙেছে শুনে স্পষ্টতই আমি দেখতে গেছি। আমার নাম যেখানে তোলা হচ্ছে, আগের দিনেও একটা ব্যাপারে, আমার নামে ওরা বলেছে, কিন্তু আমি ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ছিলাম না। অতএব আমার নাম তুলে বলে কোনও লাভ নেই।"

তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় ছাড়া অভিজিৎ মিত্র ওরফে পিকু, বাপি নাগ, মন্টি সিংহ, পুরাণ থাপা, ঝুম্পা দাস, আকাশ থাপার নাম রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো, তোলাবাজি-সহ মোট ছ’টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। 

রবিবার প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর থানার বাইরে থেকে অবরোধ সরায় পুলিশ। তবে রাত পর্যন্ত থানা চত্বরে ধর্নায় বসে থাকেন বিজেপি প্রার্থী। যে ব্যানার, পোস্টার ছেঁড়া হয়েছিল সেগুলি থানার গেটের বাইরে সেগুলি রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।


Share