Supreme Court

অরুণাচলে চুক্তি কেলেঙ্কারি! মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের সমস্ত নির্মাণ চুক্তি খতিয়ে দেখা হবে। যদিও রাজ্য সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াই স্বচ্ছ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩৯

অরুণাচল প্রদেশে সরকারি চুক্তি বণ্টনকে কেন্দ্র করে বড়সড় বিতর্কের মুখে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। স্বজনপোষণের অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এবার সরাসরি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল।

সোমবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং এনভি আঞ্জারিয়া-র বেঞ্চ জানায়, মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে দেওয়া প্রায় ১,২৭০ কোটি টাকার চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ, টেন্ডারের মাধ্যমে প্রায় ১,২৪৫ কোটি টাকার কাজ বরাদ্দ করা হয়। অতিরিক্ত ২৫ কোটি টাকার কাজ ওয়ার্ক অর্ডার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সিবিআইকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে হবে। তদন্তের আওতায় ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমস্ত সরকারি নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তি রাখা হবে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরের লেনদেনও খতিয়ে দেখা হতে পারে। শীর্ষ আদালত আরও জানায়, তদন্তের স্বার্থে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি যাতে নষ্ট না হয়, তা রাজ্য সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যসচিবকে সিবিআই-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একজন নোডাল অফিসার নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ১৬ সপ্তাহের মধ্যে সিবিআই-কে আদালতে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

 সেভ মন রিজিয়ন ফেডারেশন এবং ভলান্টারি অরুণাচল সেনা নামে দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই মামলাটি দায়ের করেছিল। তাদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী, মা এবং ভাগ্নের ঘনিষ্ঠ সংস্থাগুলির পক্ষেই একাধিক সরকারি চুক্তি বরাদ্দ করা হয়েছে।

যদিও অরুণাচল প্রদেশ সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, গোটা মামলাটি পরিকল্পিত এবং চুক্তি বণ্টনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। এর আগেও, গত বছরের ২ ডিসেম্বর, সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সমস্ত চুক্তির বিস্তারিত তথ্য সহ হলফনামা জমা দিতে বলেছিল। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ ছিল। পুরো ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন সবার নজর রয়েছে সিবিআই তদন্তের অগ্রগতির দিকে।


Share